কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১৩. নামাযে সাহু তথা ভূলের বিধান

হাদীস নং: ১২৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২৬৯
নামাযে সাহু তথা ভূলের বিধান
বাম হাত হাঁটুর ওপর খুলে রাখা।
১২৭২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... (আব্দুল্লাহ) ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামাযে বসতেন তার উভয় হাত উভয় উরুর উপর রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির সংলগ্ন অঙ্গুলি (তর্জনি) উপরে দুলাতেন ও তার দ্বারা ইশারা করতেন আর তাঁর বাম হাত উরুর উপর রাখতেন।
كتاب السهو
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ أُصْبُعَهُ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ فَدَعَا بِهَا وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ بَاسِطُهَا عَلَيْهَا .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বৈঠকে কালেমা শাহাদাত পাঠের পর তর্জনী উঠানো এবং ইশারা করার বিষয়টি শুধু হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে নয় বরং অপরাপর সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে। নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ ﷺ তা করেছেন বলে প্রমাণিত। এর দ্বারা বাহ্যিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসল্লী যখন 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই) পাঠ করে, আল্লাহর অদ্বিতীয় একক সত্তার সাক্ষ্য দেয় তখন তার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সুদৃঢ় বিশ্বাস জন্মে তখন তার একটি বিশেষ আঙ্গুল উচিয়ে শরীর দিয়েও সাক্ষ্য দেয়। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) বর্ণিত এ হাদীসের অন্যান্য সূত্রে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে তর্জনী উঠানোর সাথে সাথে চোখ দ্বারাও ইশারা করতেন وأتبعها بصره উক্ত ইশারার ব্যাপারে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) নবী কারীম ﷺ এর নিম্নোক্ত বাণী উল্লেখ করেন- لهي أشد على الشيطان من الحديد "আঙ্গুল দ্বারা ইশারা লোহা দ্বারা (ধারাল ছুরি বা তলোয়ারের আঘাত) অপেক্ষাও শয়তানের কাছে অধিক ভয়াবহ।" (মুসনাদে আহমাদের বরাতে মিশকাত)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)