কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১৪. জুমআ'র অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৪
জুমআ'র অধ্যায়
জুমআর দিন নবী (ﷺ) এর উপর অধিক দরুদ পড়া
১৩৭৭। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের সকল দিনের মধ্যে পরমোৎকৃষ্ট দিন হল জুমআর দিন, সে দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে দিনই তাঁর ওফাত হয়, সে দিনই দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

অতএব, তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরুদ পড়। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (এক সময়) ওফাত পেয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা বললেন, আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যমীনের জন্য নবীগণের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।
كتاب الجمعة
إكثار الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ أَىْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ . قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরে বর্ণিত হযরত আওস ইবনে আওস সাকাফীর হাদীসে জুমু'আর দিনে সংঘটিত অসাধারণ ঘটনাসমূহের বিবরণ দিয়ে মূলতঃ জুমু'আর দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, এদিনে বেশি বেশি দুরূদ পড়া চাই। রমাযানুল মুবারকের বিশেষ আমল যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং তা যেমন রমাযানের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, হজ্জের সফরে তালবীয়া যেমন বিশেষ আমল তদ্রুপ হাদীসের আলোকে জুমু'আর দিনের বিশেষ আমল হল দুরূদ পাঠ। তাই এ দিনে বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করা উচিত।

ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান