কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
১৬. চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ
হাদীস নং: ১৪৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৮৫
চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ
অন্য আর এক প্রকার বর্ণনা
১৪৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যূগে একবার সূর্যগ্রহণ লেগে গেল। তখন তিনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তার কাপড় সামলাতে সামলাতে বের হয়ে মসজিদে পৌছে গেলেন এবং আমাদের তিনি এভাবে নামায আদায় করতে থাকলেন যে, সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। যখন সূর্য আলোকিত হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন, মানূষেরা ধারণা করে যে, সূর্য এবং চন্দ্র গ্রহণ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণেই হয়ে থাকে, কিন্তু ব্যাপারে তা নয়। কারো মৃত্যুর করেণে চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ হয় না, বরং তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের দু’টি নিদর্শন। যখন আল্লাহর জন্য তাঁর কোন সৃষ্টির প্রতি তার নূরে বহিঃপ্রকাশ ঘটান, তখন ঐ সৃষ্টি তাঁর অনুগত হয়ে যায় (অথাৎ তার আলো নিষ্প্রভ হয়ে যায়)। অতএব, তোমরা যখন তা দেখ, তখন নামায আদায় কর, তোমাদের আদায়কৃত ফরয নামাযের মধ্যে নামায আদায়কৃত নামাযের (ফজরের নামাযের) মত।
كتاب الكسوف
باب نَوْعٌ آخَرُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ يَجُرُّ ثَوْبَهُ فَزِعًا حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّي بِنَا حَتَّى انْجَلَتْ فَلَمَّا انْجَلَتْ قَالَ " إِنَّ نَاسًا يَزْعُمُونَ أَنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ إِلاَّ لِمَوْتِ عَظِيمٍ مِنَ الْعُظَمَاءِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا بَدَا لِشَىْءٍ مِنْ خَلْقِهِ خَشَعَ لَهُ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَصَلُّوا كَأَحْدَثِ صَلاَةٍ صَلَّيْتُمُوهَا مِنَ الْمَكْتُوبَةِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদরতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম। যখন চন্দ্র অথবা সূর্যগ্রহণ হয় তখন অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে মহা মহিমান্বিত আল্লাহর আসনে মাথা ঝুঁকিয়ে তাঁর দয়া ও করুণা প্রার্থনা করা উচিত। উল্লেখ্য, নবী নন্দন হযরত ইব্রাহীমের বয়স যখন দেড় বছর তখন তিনি ইন্তিকাল১ করেন' এবং ঐদিন সূর্যগ্রহণও লেগেছিল।
জাহিলিয়া যুগের একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কোন মহান ব্যক্তির তিরোধান জনিত কারণেই মূলতঃ সূর্যগ্রহণ হয়। যেন তার মৃত্যুতে সূর্যকালো চাদর গায়ে শোকের আচ্ছন্ন হয়। হযরত ইব্রাহীমের ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হওয়ায় মানুষ উক্ত ভুল ধারণার শিকার হতে পারত। বরং কোন কোন বর্ণনায় আছে, কোন কোন মানুষের মুখে একথা উচ্চারিত হয় যে, তাঁর মৃত্যুতেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তাই সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ভীষণভাবে শংকিত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামা'আত সহ দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।
এ সালাত ছিল ভিন্ন ধর্মী। তিনি এতে দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করেন এবং কিরা'আতের মধ্যে কখনো কখনো তন্ময় হয়ে ঝুঁকে পড়তেন। আবার সোজা হয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন। একইভাবে এ সালাতে তিনি দীর্ঘ রুকু সিজদা করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সালাতে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন। তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। কারো মৃত্যু জনিত কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হওয়ার বদ্ধমূল ধারণা চিরতে বিদূরিত করেন। তিনি বলেন, এ হল, জাহিলিয়া যুগের চিন্তা-চেতনারই ফল যার কোন ভিত্তি নেই। এ হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদ্রতেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই কখনো সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে বিনয় নম্রতার সাথে আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া, তাঁর ইবাদাত করা এবং দু'আ করা উচিত।
টিকা: ১. নবীনন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা) দশম হিজরীতে ইন্তিকাল করেন এ বিষয় বিপুল সংখ্যক হাদীস বিশারদ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারো কারো মতে, তিনি রাবীউল আউওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। বিগত শতাব্দীর খ্যাতিমান মনীষী মরহুম মাহমূদ পাশা এ বিষয়ে ফরাসী ভাষায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন যার আরবী তরজমা ১৩০৫ হিজরীতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত সূর্যগ্রহণের তারিখ দশম হিজরীর ২৯ শে শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ঐদিন সকাল সাড়ে আটটায় সূর্যগ্রহণের কথা লেখেছিল।
জাহিলিয়া যুগের একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কোন মহান ব্যক্তির তিরোধান জনিত কারণেই মূলতঃ সূর্যগ্রহণ হয়। যেন তার মৃত্যুতে সূর্যকালো চাদর গায়ে শোকের আচ্ছন্ন হয়। হযরত ইব্রাহীমের ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হওয়ায় মানুষ উক্ত ভুল ধারণার শিকার হতে পারত। বরং কোন কোন বর্ণনায় আছে, কোন কোন মানুষের মুখে একথা উচ্চারিত হয় যে, তাঁর মৃত্যুতেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তাই সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ভীষণভাবে শংকিত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামা'আত সহ দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।
এ সালাত ছিল ভিন্ন ধর্মী। তিনি এতে দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করেন এবং কিরা'আতের মধ্যে কখনো কখনো তন্ময় হয়ে ঝুঁকে পড়তেন। আবার সোজা হয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন। একইভাবে এ সালাতে তিনি দীর্ঘ রুকু সিজদা করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সালাতে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন। তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। কারো মৃত্যু জনিত কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হওয়ার বদ্ধমূল ধারণা চিরতে বিদূরিত করেন। তিনি বলেন, এ হল, জাহিলিয়া যুগের চিন্তা-চেতনারই ফল যার কোন ভিত্তি নেই। এ হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদ্রতেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই কখনো সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে বিনয় নম্রতার সাথে আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া, তাঁর ইবাদাত করা এবং দু'আ করা উচিত।
টিকা: ১. নবীনন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা) দশম হিজরীতে ইন্তিকাল করেন এ বিষয় বিপুল সংখ্যক হাদীস বিশারদ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারো কারো মতে, তিনি রাবীউল আউওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। বিগত শতাব্দীর খ্যাতিমান মনীষী মরহুম মাহমূদ পাশা এ বিষয়ে ফরাসী ভাষায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন যার আরবী তরজমা ১৩০৫ হিজরীতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত সূর্যগ্রহণের তারিখ দশম হিজরীর ২৯ শে শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ঐদিন সকাল সাড়ে আটটায় সূর্যগ্রহণের কথা লেখেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)