কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১৯. দু' ঈদের নামাযের বর্ণনা

হাদীস নং: ১৫৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭৫
দু' ঈদের নামাযের বর্ণনা
ইমামের খুতবা দেওয়াকালীন কোন মানুষের উপর ভর করে দাঁড়ানো
১৫৭৮। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঈদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামাযে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আযান ইকামত ব্যতীতই খুতবা দেওয়ার পূর্বে নামায শুরু করে দিলেন। যখন নামায শেষ করলেন, বিলাল (রাযিঃ) এর উপর ভর করে দাঁড়িয়ে গেলেন, আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণ বর্ণনা করলেন, লোকদের ওয়াজ করলেন, তাদের নসীহত করলেন এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং নারীদের দিকে গেলেন।

তার সাথে বিলাল (রাযিঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাদেরকে আদেশ দিলেন আল্লাহকে ভয় করতে, ওয়াজ করলেন, নসীহাত করলেন, আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণ বর্ণনা করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উবুদ্ধ করলেন এবং বললেন, তোমরা দান-খয়রাত করবে, যেহেতু তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের ইন্ধন। তখন নিম্ন শ্রেনির একজন মহিলা বলে উঠল যার গণ্ডদ্বয়ে হালকা কাল দাগ ছিল, কেন ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, তোমরা অত্যধিক গীবত কর এবং স্বামীর নাফরমানী কর। তখন তারা নিজেদের হার, কানের বালী এবং আংটি টেনে টেনে খূলে ফেলতে শুরু করল, যা বিলালে (রাযিঃ) এর কাপড়ে ছুড়ে মারতে শুরু করল সাদ্‌কা স্বরূপ।
كتاب صلاة العيدين
باب قِيَامِ الإِمَامِ فِي الْخُطْبَةِ مُتَوَكِّئًا عَلَى إِنْسَانٍ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ شَهِدْتُ الصَّلاَةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلاَلٍ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ وَحَثَّهُمْ عَلَى طَاعَتِهِ ثُمَّ مَالَ وَمَضَى إِلَى النِّسَاءِ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَمَرَهُنَّ بِتَقْوَى اللَّهِ وَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ حَثَّهُنَّ عَلَى طَاعَتِهِ ثُمَّ قَالَ " تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ " . فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْ سَفِلَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ " . فَجَعَلْنَ يَنْزِعْنَ قَلاَئِدَهُنَّ وَأَقْرُطَهُنَّ وَخَوَاتِيمَهُنَّ يَقْذِفْنَهُ فِي ثَوْبِ بِلاَلٍ يَتَصَدَّقْنَ بِهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীসে ঈদের খুতবায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পৃথকভাবে সম্বোধন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত সহীহ্ মুসলিমের এক হাদীস সূত্রে জানা যায় যে, নবী কারীম ﷺ খেয়াল করেছিলেন যে, নারীরা খুতবা শুনতে পায়নি (তাই তিনি পৃথকভাবে তাদের নসীহত করেন)।

জ্ঞাতব্যঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে দুই ঈদের সালাতে সাধারণভাবে মহিলারা অংশ নিত। বরং বলা যায়, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশও ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ দেখা দেওয়ায় ফিকহবিদ বিশেষজ্ঞ আলিমগণ যেমন জুমু'আ ও পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে মহিলাদের জামা'আতে অংশগ্রহণ করাকে অসমীচীন মনে করেন, অনুরূপভাবে দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রেও তাদের ঈদগাহে যাওয়া তারা অসমীচীন মনে করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)