কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
২১. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৪১
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৪১
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
মৃত ব্যক্তিকে চুমু দেয়া
১৮৪৪। সুওয়ায়দ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাযিঃ) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর (রাযিঃ) তার “সুনহা” নামক স্থানের বাসস্থান থেকে একটি ঘোড়ায় আরোহণ করে এসে অবতরণ করলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি কারো সাথে কোন কথাবার্তা না বলে আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ইয়ামানী চাদরে ঢাকা ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল থেকে তা খুলে ফেলে ঝুঁকে পড়ে তাঁকে চুমু খেলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাআলা আপনাকে কখনো দু’ বার মৃত্যু দান করবেন না। যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা আপনি বরণ করে নিয়েছেন।
كتاب الجنائز
باب تَقْبِيلِ الْمَيِّتِ
أَخْبَرَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ قَالَ مَعْمَرٌ وَيُونُسُ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَقْبَلَ عَلَى فَرَسٍ مِنْ مَسْكَنِهِ بِالسُّنُحِ حَتَّى نَزَلَ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَلَمْ يُكَلِّمِ النَّاسَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسَجًّى بِبُرْدٍ حِبَرَةٍ فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ فَقَبَّلَهُ فَبَكَى ثُمَّ قَالَ بِأَبِي أَنْتَ وَاللَّهِ لاَ يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ أَبَدًا أَمَّا الْمَوْتَةُ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْكَ فَقَدْ مُتَّهَا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে দিন হুযূর (ﷺ)-এর ওফাত হয়, সেদিন সকালে তাঁর অবস্থা অনেক ভাল ও স্বস্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল। এ জন্যই হযরত আবু বকর রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের আবাসস্থলে 'সুন্হ', চলে গিয়েছিলেন। তিনি তখনও সেখানেই ছিলেন, এ দিকে হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত হয়ে গেল। যারা এ সংবাদ জানতে পারল, তারা সমবেত হতে লাগল। তাদের মধ্যে হযরত উমর রাযি. ও ছিলেন, যিনি কোন ভাবেই একথা মানতে; বরং শুনতেও প্রস্তুত ছিলেন না যে, হুযূর (ﷺ) ইন্তিকাল করে গিয়েছেন। হাফেয ইবনে হাজার এ হাদীসেরই ব্যাখ্যায় মুসনাদে আহমদের বরাতে হযরত আয়েশা রাযি.-এর রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন যে, যখন হুযুর (ﷺ) ইন্তিকাল করলেন এবং আমি তাঁকে চাদর পরিয়ে দিলাম, তখন হযরত উমর ও মুগীরা ইবনে শো'বা রাযি. আসলেন এবং হুযুর (ﷺ)-কে দেখার জন্য ভিতরে আসার অনুমতি চাইলেন। আমি তখন পর্দার ভিতর চলে গেলাম এবং তাঁদের দু'জনকেই অনুমতি দিলাম। তাঁরা দু'জনই ভিতরে আসলেন। হযরত উমর রাযি. হুযুর (ﷺ)-কে দেখে বললেন, وا غشيتاه (হায়! এ কেমন মূর্ছা যাওয়া।) তারপর উভয়ে যখন বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হযরত মুগীরা রাযি. হযরত উমরকে বললেন, এটা মূর্ছা যাওয়া নয়, হুযুর (ﷺ) তো বিদায় হয়ে গিয়েছেন। হযরত উমর রাযি. তখন তাকে জোরে ধমক দিলেন এবং বললেন, হুযুর (ﷺ)-কে সে সময় পর্যন্ত দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে না, যে পর্যন্ত না অমুক অমুক কাজ আঞ্জাম দিবেন- যেগুলো এ পর্যন্ত আঞ্জাম দেওয়া হয়নি। বস্তুতঃ হযরত উমরের এ অবস্থাই ছিল এবং তিনি পূর্ণ জোর দিয়ে লোকদেরকে একথাই বলে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থায়ই হযরত আবূ বকর রাযি. ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে এসে পৌঁছলেন। প্রথমে মসজিদে আসলেন, যেখানে লোকজন সমবেত ছিল, কিন্তু কারো সাথে কোন কথা বললেন না; বরং হযরত আয়েশার হুজরায় প্রবেশ করলেন, চেহারা মুবারক থেকে কাপড় সরালেন, কাঁদতে কাঁদতে চুমু খেলেন এবং বললেন, আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবান। যে মৃত্যু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য লিপিবদ্ধ ছিল সেটা এসেই গিয়েছে।
(বুখারী শরীফেরই অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু বকর রাযি. এ সময় إِنَّا لِلَّہِ وَإِنَّا إِلَیْہِ رَاجِعُون ও বললেন।) এরপর হযরত আবূ বকর রাযি. বাইরে তাশরীফ আনলেন। এখানে হযরত উমর রাযি. নিজের ধারণা অনুযায়ী লোকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হযরত আবু বকর রাযি. তাকে বললেন, বসে যাও, অর্থাৎ, লোকদের সামনে যে বক্তব্য রাখছ তা বন্ধ করে দাও। কিন্তু হযরত উমর রাযি. এ সময় অবস্থার কাছে এমন পরাজিত ছিলেন যে, হযরত আবু বকরের কথা তিনি মানলেন না; বরং মানতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানালেন। হযরত আবু বকর রাযি. হযরত উমরকে এ অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে মসজিদের মিম্বরে তাশরীফ আনলেন। এবার সব মানুষ হযরত উমরকে ছেড়ে দিয়ে আবু বকরের নিকট এসে গেল। তিনি তখন ভাষণ দিলেন। তিনি সেখানে কুরআন মজীদের সূরা আলে এমরানের ১৪৪ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর এ ভাষণ ও এ আয়াত প্রতিটি ঈমানদারের অন্তরে এ বিশ্বাস সৃষ্টি করে দিল যে, হুযুর (ﷺ)-কে একদিন এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে, তাই বিদায় নিয়েছেন। আর আমাদের জীবন-মরণ তাঁরই প্রদর্শিত পথে হওয়া উচিত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন যে, এ বিশেষ মুহূর্তে হযরত আবু বকর রাযি.-এর মুখে এ আয়াত শোনার পর সবার মুখেই এটা উচ্চারিত হচ্ছিল। সবাই এ আয়াত তিলাওয়াত করে নিজের মনকে এবং অন্যদেরকে ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হেদায়াতের উপর দৃঢ়পদ থাকার সবক দিচ্ছিল।
এ ঘটনা প্রসঙ্গেই সামনে ইমাম যুহরী সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, স্বয়ং হযরত উমর রাযি. বলেছেন যে, যখন আবূ বকর রাযি. وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, তখন নিজের ভুল উপলব্ধি করে আমার এ অবস্থা হয়ে হয়ে গেল যে, আমি যেন নিষ্প্রাণ হয়ে গেলাম, আমার পায়ে এতটুকু শক্তি রইল না যে, আমি দাঁড়াতে পারি। আমার অন্তর সায় দিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিশ্চয়ই ওফাত পেয়ে গেছেন।
(বুখারী শরীফেরই অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু বকর রাযি. এ সময় إِنَّا لِلَّہِ وَإِنَّا إِلَیْہِ رَاجِعُون ও বললেন।) এরপর হযরত আবূ বকর রাযি. বাইরে তাশরীফ আনলেন। এখানে হযরত উমর রাযি. নিজের ধারণা অনুযায়ী লোকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হযরত আবু বকর রাযি. তাকে বললেন, বসে যাও, অর্থাৎ, লোকদের সামনে যে বক্তব্য রাখছ তা বন্ধ করে দাও। কিন্তু হযরত উমর রাযি. এ সময় অবস্থার কাছে এমন পরাজিত ছিলেন যে, হযরত আবু বকরের কথা তিনি মানলেন না; বরং মানতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানালেন। হযরত আবু বকর রাযি. হযরত উমরকে এ অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে মসজিদের মিম্বরে তাশরীফ আনলেন। এবার সব মানুষ হযরত উমরকে ছেড়ে দিয়ে আবু বকরের নিকট এসে গেল। তিনি তখন ভাষণ দিলেন। তিনি সেখানে কুরআন মজীদের সূরা আলে এমরানের ১৪৪ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর এ ভাষণ ও এ আয়াত প্রতিটি ঈমানদারের অন্তরে এ বিশ্বাস সৃষ্টি করে দিল যে, হুযুর (ﷺ)-কে একদিন এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে, তাই বিদায় নিয়েছেন। আর আমাদের জীবন-মরণ তাঁরই প্রদর্শিত পথে হওয়া উচিত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন যে, এ বিশেষ মুহূর্তে হযরত আবু বকর রাযি.-এর মুখে এ আয়াত শোনার পর সবার মুখেই এটা উচ্চারিত হচ্ছিল। সবাই এ আয়াত তিলাওয়াত করে নিজের মনকে এবং অন্যদেরকে ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হেদায়াতের উপর দৃঢ়পদ থাকার সবক দিচ্ছিল।
এ ঘটনা প্রসঙ্গেই সামনে ইমাম যুহরী সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, স্বয়ং হযরত উমর রাযি. বলেছেন যে, যখন আবূ বকর রাযি. وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, তখন নিজের ভুল উপলব্ধি করে আমার এ অবস্থা হয়ে হয়ে গেল যে, আমি যেন নিষ্প্রাণ হয়ে গেলাম, আমার পায়ে এতটুকু শক্তি রইল না যে, আমি দাঁড়াতে পারি। আমার অন্তর সায় দিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিশ্চয়ই ওফাত পেয়ে গেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)