কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২১. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৯৩
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
শরীরের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক দেওয়া
১৮৯৬। ইউসূফ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) একজন আনসারী মহিলা ছিলেন, তিনি (বসরায়) এসে তাড়াতাড়ি তার ছেলের কাছে গেলেন। কিন্তু তাকে পেলেন না। (কারণ, সে ইতিপূর্বে মারা গিয়েছিল) তিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন তার মেয়েকে গোসল করাচ্ছিলাম। তিনি বলেন, তাকে তিনবার, পাঁচবার বা ততোধিকবার গোসল করাবে যদি তোমরা ভাল মনে কর পানি এবং বরই পাতা দ্বারা এবং শেষবার কর্পূর বা কর্পূরের কিছু অংশ দেবে। আর যখন তোমরা অবসর হবে আমাকে সংবাদ দিবে। যখন আমরা অবসর হলাম তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও।

রাবী মুহাম্মাদ ইবনে রাবী আইয়্যুব ইবনে তামীমা বলেন যে, আমি জানিনা সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন মেয়ে ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম “তার কাফনের নীচে দিয়ে দাও” এর অর্থ কি? এটা কি তাকে পায়জামা হিসাবে পরিধান করানো হবে? তিনি বললেন, তা আমার মনে হয় না, তবে তিনি হয়তো বলেছিলেন তা দিয়ে পেঁচিয়ে দাও।
كتاب الجنائز
باب الإِشْعَارِ
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَيُّوبُ بْنُ أَبِي تَمِيمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ، يَقُولُ كَانَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ قَدِمَتْ تُبَادِرُ ابْنًا لَهَا فَلَمْ تُدْرِكْهُ حَدَّثَتْنَا قَالَتْ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَغْسِلُ ابْنَتَهُ فَقَالَ " اغْسِلْنَهَا ثَلاَثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ رَأَيْتُنَّ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي " . فَلَمَّا فَرَغْنَا أَلْقَى إِلَيْنَا حَقْوَهُ وَقَالَ " أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ " . وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذَلِكَ . قَالَ لاَ أَدْرِي أَىُّ بَنَاتِهِ . قَالَ قُلْتُ مَا قَوْلُهُ " أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ " . أَتُؤَزَّرُ بِهِ قَالَ لاَ أُرَاهُ إِلاَّ أَنْ يَقُولَ الْفُفْنَهَا فِيهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত অনরূপ এক রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম ﷺ-এর যে কন্যাকে গোসলের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা হযরত যায়নাব (রা), আবুল আ'সের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি অষ্টম হিজরীর প্রথম দিকে ইন্তিকাল করেন। যে সকল মহিলা সাহাবী তাঁর গোসলে অংশগ্রহণ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে আলোচ্য হাদীসের রাবী উম্মু আতিয়‍্যা আনসারিয়‍্যা (রা) ছিলেন অন্যতমা। এ ধরনের খিদমত আঞ্জাম দানের ক্ষেত্রে তিনি সদা প্রস্তুত থাকতেন। মৃত মহিলাদের লাশ গোসল করানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। বিশিষ্ট তাবিঈ ইবনে সীরীন (র) বলেন, আমি মৃতকে গোসল দানের পদ্ধতি তাঁর কাছেই শিখেছি।

আলোচ্য হাদীসে বরইপাতা দিয়ে পানি গরম করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। কারণ এর দ্বারা সহজেই শরীরের ময়লা দূর হয়ে যায়। এই যুগে শরীর পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যে যেমন আমরা সাবান ব্যবহার করে থাকি, তেমনি সে যুগেও লোকেরা শরীরের ময়লা দূর করার উদ্দেশ্যে বরই পাতা দিয়ে পানি গরম করে নিত। তাই নবী কারীম ﷺ তিনবার গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনবোধে তিনবারেরও অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কেননা বোজোড় সংখ্যা আল্লাহর কাছে পসন্দনীয়। অর্থাৎ তিন, পাঁচবার ও প্রয়োজনবোধে সাতবারও গোসল করানো যেতে পারে। শেষবারে কর্পূর মিশিয়েও গোসল দেওয়া যেতে পারে যাতে সুগন্ধি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ব্যবস্থাই মৃতের সম্মান ও মর্যাদার দিক স্পষ্ট।

রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নিজ কন্যাকে নিজের তহবন্দ দিয়ে গোসলকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তারা যেন তা তার দেহের সাথে লাগিয়ে পরান। এ পর্যায়ে আলিমগণ বলেন, আল্লাহর কোন প্রিয় মকবুল বান্দার পোশাক যদি বরকতের উদ্দেশ্যে মৃতকে পরিয়ে দেওয়া হয় তবে তা যেমন জায়িয। তেমনি উপকৃত হওয়ারও আশা করা যেতে পারে। তবে এসবের উপর ভিত্তি করে যদি আমল বাদ দিয়ে অচেতনভাবে দিন কাটায়, তবে নিঃসন্দেহে তা হবে গুমরাহী।

আলোচ্য রিওয়ায়াত দ্বারা একথা বুঝা যাচ্ছে না যে, নবী তনয়াকে কয় কাপড়ে কাফন পরানো হয়েছে। কিন্তু হাফিয ইবনে হাজার (র) জাওযাকীর সূত্রে উম্মু আতিয়্যা (রা) থেকে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

فكفناها في خمسة أثواب وخمرناها كما يخمر الحي

"আমরা নবী দূহিতাকে পাঁচটি কাপড় দ্বারা কাফন পরিয়েছি "এবং জীবিতাবস্থায় যেমন তিনি ওড়না পরতেন তেমনি তাকে ওড়না পরিয়েছি।"

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের জন্য পাঁচটি কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করা সুন্নাতরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
সুনানে নাসায়ী - হাদীস নং ১৮৯৩ | মুসলিম বাংলা