আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

২৮- ইজারা অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ২২৮৯
- ইজারা অধ্যায়
১৪২৪. মৃত ব্যক্তির ঋণ কোন জীবিত ব্যক্তির হাওয়ালা করা হলে তা জায়েয
২১৪৪। মক্কী ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ....সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযার নামায আদায় করে দিন। নবী (ﷺ) বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বলল, না। তখন তিনি তার জানাযার নামায আদায় করলেন।
তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি জানাযার নামায আদায় করে দিন। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? বলা হল হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, তিনটি দীনার। তখন তিনি তার জানাযার নামায আদায় করলেন।
তারপর তৃতীয় আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযা আদায় করুন। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বললেন, তিন দীনার। তিনি বললেন, তোমাদের এ লোকটির নামায তোমরাই আদায় করে নাও। আবু কাতাদা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ তার জানাযার নামায আদায় করুন, তার ঋণের জন্য আমি দায়ী। তখন তিনি তার জানাযার নামায আদায় করলেন।
كتاب الإجارة
بَابُ إِنْ أَحَالَ دَيْنَ المَيِّتِ عَلَى رَجُلٍ جَازَ
2289 - حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» ، قَالُوا: لاَ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» ، قَالُوا: لاَ، فَصَلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، صَلِّ عَلَيْهَا، قَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قِيلَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» ، قَالُوا: ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّالِثَةِ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» ، قَالُوا: لاَ، قَالَ: «فَهَلْ عَلَيْهِ [ص:95] دَيْنٌ؟» ، قَالُوا: ثَلاَثَةُ دَنَانِيرَ، قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» ، قَالَ أَبُو قَتَادَةَ صَلِّ عَلَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্মপদ্ধতি বাহ্যত জীবিতদের সাবধান করার জন্য ছিল। তারা যেন ঋণ পরিশোধে অবহেলা ও ত্রুটি না করে। আর সবার এ চেষ্টা থাকা চাই যে, যদি তার ওপর কারো ঋণ থেকে থাকে তবে সে তা থেকে মুক্ত হবার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। দুনিয়া হতে এরূপ অবস্থায় বিদায় নিবে যে, তার জিম্মায় কারো কোন দাবি নেই। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে এক হাদীস এ মর্মে বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্ম পদ্ধতি (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামাযে জানাযা থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন, আর সাহাবীদের বলে দিতেন তোমরা পড়ে নাও) প্রাথমিক যুগে ছিল। পরে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বিজয়ের দ্বারসমূহ খুলে যায় এবং দারিদ্র্য ও অসামর্থ্যের যুগ চলে গেল। তখন তিনি ঘোষণা করে দিলন, যদি কোন মুসলমান ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (আর পরিশোধের কোন সম্পদ রেখে না যায়) তবে সে ঋণ আমার জিম্মায় আমি পরিশোধ করব। এ কথার উদ্দেশ্যই ছিল যে, কোন মুসলমানের জিম্মায় অন্য কারো দাবি বাকি যেন না থাকে। বস্তুত এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋণ পরিশোধ না করা এবং এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া বড় শক্ত গুনাহ এবং এর পরিণতি খুবই ভয়ানক। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলী থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন এবং দুনিয়া থেকে এ অবস্থায় নিয়ে যান যেন কোন বান্দার ঋণ ও কোন প্রকার দাবি আমাদের জিম্মায় অবশিষ্ট না থাকে। ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ তা'আলা পরিশোধ করিয়েই দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)