কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২১. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৬১
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৬১
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির উপর জানাযার নামায আদায় করা
১৯৬৫। আমর ইবনে আলী মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে একজনের মৃত দেহ আনা হলে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি এর উপর জানাজার নামায আদায় করুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, সে কি ঋণগ্রস্ত? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন যে, সে কি কোন সম্পতি রেখে গেছে? সাহাবীগণ বললেন, না।

তিনি বললেন তোমরা নিজেরাই সাথীর উপর জানাজার নামায আদায় কর। একজন আনসারী সাহাবী বললেন, যাকে আবু কাতাদাহ (রাযিঃ) বলা হয়, আপনি তার উপর জানাজার নামায আদায় করুন,তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর জানাজার নামায আদায় করলেন।
كتاب الجنائز
باب الصَّلاَةِ عَلَى مَنْ عَلَيْهِ دَيْنٌ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الأَكْوَعِ - قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِجَنَازَةٍ فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلِّ عَلَيْهَا . قَالَ " هَلْ تَرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " هَلْ تَرَكَ مِنْ شَىْءٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ " . قَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو قَتَادَةَ صَلِّ عَلَيْهِ وَعَلَىَّ دَيْنُهُ . فَصَلَّى عَلَيْهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্মপদ্ধতি বাহ্যত জীবিতদের সাবধান করার জন্য ছিল। তারা যেন ঋণ পরিশোধে অবহেলা ও ত্রুটি না করে। আর সবার এ চেষ্টা থাকা চাই যে, যদি তার ওপর কারো ঋণ থেকে থাকে তবে সে তা থেকে মুক্ত হবার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। দুনিয়া হতে এরূপ অবস্থায় বিদায় নিবে যে, তার জিম্মায় কারো কোন দাবি নেই। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে এক হাদীস এ মর্মে বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্ম পদ্ধতি (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামাযে জানাযা থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন, আর সাহাবীদের বলে দিতেন তোমরা পড়ে নাও) প্রাথমিক যুগে ছিল। পরে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বিজয়ের দ্বারসমূহ খুলে যায় এবং দারিদ্র্য ও অসামর্থ্যের যুগ চলে গেল। তখন তিনি ঘোষণা করে দিলন, যদি কোন মুসলমান ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (আর পরিশোধের কোন সম্পদ রেখে না যায়) তবে সে ঋণ আমার জিম্মায় আমি পরিশোধ করব। এ কথার উদ্দেশ্যই ছিল যে, কোন মুসলমানের জিম্মায় অন্য কারো দাবি বাকি যেন না থাকে। বস্তুত এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋণ পরিশোধ না করা এবং এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া বড় শক্ত গুনাহ এবং এর পরিণতি খুবই ভয়ানক। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলী থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন এবং দুনিয়া থেকে এ অবস্থায় নিয়ে যান যেন কোন বান্দার ঋণ ও কোন প্রকার দাবি আমাদের জিম্মায় অবশিষ্ট না থাকে। ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ তা'আলা পরিশোধ করিয়েই দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান