কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
২১. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৮৫
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
দু'আ
১৯৮৯। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে খালিদ সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। তাদের একজন নিহত হল। অন্যজন পরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলে আমরা তার জানাজার নামায আদায় করলাম। নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা কি পড়েছিলে? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তার জন্য দোয়া করেছিলাম اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ اللَّهُمَّ أَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ
তখন নবী (ﷺ) বললেন, নিহত ব্যক্তির নামাযের উপর মৃত ব্যক্তির মর্যাদা কোথায়? এবং নিহত ব্যক্তির কৃতকর্মের উপর মৃতব্যক্তির কৃতকর্মের মর্যাদা কোথায়? এতদুভয়ের ব্যবধান তো আসমান এবং যমীনের মধ্যকার ব্যবধানের ন্যায়।
তখন নবী (ﷺ) বললেন, নিহত ব্যক্তির নামাযের উপর মৃত ব্যক্তির মর্যাদা কোথায়? এবং নিহত ব্যক্তির কৃতকর্মের উপর মৃতব্যক্তির কৃতকর্মের মর্যাদা কোথায়? এতদুভয়ের ব্যবধান তো আসমান এবং যমীনের মধ্যকার ব্যবধানের ন্যায়।
كتاب الجنائز
باب الدُّعَاءِ
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُبَيِّعَةَ السُّلَمِيِّ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عُبَيْدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا وَمَاتَ الآخَرُ بَعْدَهُ فَصَلَّيْنَا عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا قُلْتُمْ " . قَالُوا دَعَوْنَا لَهُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ اللَّهُمَّ أَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " فَأَيْنَ صَلاَتُهُ بَعْدَ صَلاَتِهِ وَأَيْنَ عَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ فَلَمَا بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . قَالَ عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ أَعْجَبَنِي لأَنَّهُ أَسْنَدَ لِي .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। শাহাদাতের মাধ্যমে এ সুমহান মর্যাদা লাভ করার জন্য সর্বদা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। শাহাদাতের কামনা মনে থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে আশা করা যায় আল্লাহ তার নেক নিয়্যতের জন্য তাকে শাহাদাতের সওয়াব দান করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেসব নেক কাজ করেছেন, সে সবের জন্য তাকে বর্ধিত সওয়াব দান করা হবে।
নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যখন শুনতে পেলেন যে, তাঁরা শহীদ ব্যক্তির কাছে শেষে মৃত্যুবরণকারীকে পৌছানোর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে যা বলেছিলেন তার অর্থ হল, প্রথম ব্যক্তির শাহাদাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময় দুনিয়াতে বেঁচেছিলেন। সে সময়ের মধ্যে নামায-রোযা এবং সৎকর্ম এমন আন্তরিকতার সাথে করেছিলেন যে, আল্লাহ তার উপর প্রীত ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে শহীদ ব্যক্তির চেয়েও বেশি মর্যাদা দান করেছেন। ফলে উভয়ের মর্যাদার মধ্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ব্যক্তিকে শাহাদাতের সওয়াব দান করা হয়েছে, তাতে তাকে কোনরূপ কম দেয়া হয়নি। কিন্তু শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী যাহিদ ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা সহকারে যে নেক আমল করেছিলেন, সে নেক আমলের দরুন তিনি তার শহীদ বন্ধুর চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই প্রত্যেক নেক কাজে ইখলাস থাকা উচিত এবং ইখলাসের সাথে সামান্য সময়ের মধ্যেও যে ইবাদত-বন্দেগী করা হয়, তার ফল এত বিরাট ও মহান যে, তা আমরা সহজে ধারণাও করতে পারি না।
নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যখন শুনতে পেলেন যে, তাঁরা শহীদ ব্যক্তির কাছে শেষে মৃত্যুবরণকারীকে পৌছানোর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে যা বলেছিলেন তার অর্থ হল, প্রথম ব্যক্তির শাহাদাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময় দুনিয়াতে বেঁচেছিলেন। সে সময়ের মধ্যে নামায-রোযা এবং সৎকর্ম এমন আন্তরিকতার সাথে করেছিলেন যে, আল্লাহ তার উপর প্রীত ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে শহীদ ব্যক্তির চেয়েও বেশি মর্যাদা দান করেছেন। ফলে উভয়ের মর্যাদার মধ্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ব্যক্তিকে শাহাদাতের সওয়াব দান করা হয়েছে, তাতে তাকে কোনরূপ কম দেয়া হয়নি। কিন্তু শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী যাহিদ ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা সহকারে যে নেক আমল করেছিলেন, সে নেক আমলের দরুন তিনি তার শহীদ বন্ধুর চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই প্রত্যেক নেক কাজে ইখলাস থাকা উচিত এবং ইখলাসের সাথে সামান্য সময়ের মধ্যেও যে ইবাদত-বন্দেগী করা হয়, তার ফল এত বিরাট ও মহান যে, তা আমরা সহজে ধারণাও করতে পারি না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)