কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২৩. যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬১৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৬১৩
যাকাতের অধ্যায়
সাদ্‌কা নবী (ﷺ) এর জন্য বৈধ নয়
২৬১৫. যিয়াদ ইবনে আইয়ূব (রাহঃ) ......... বাহয ইবনে হাকীম তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ)-কে কোন হাদিয়া পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন যে, এটা হাদিয়া না সাদ্‌কা? সাদ্‌কা বলা হলে তিনি তা খেতেন না আর হাদিয়া বলা হলে তিনি হস্ত প্রসারিত করতেন (খেতেন)।
كتاب الزكاة
الصَّدَقَةُ لَا تَحِلُّ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ وَاصِلٍ قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُتِيَ بِشَيْءٍ سَأَلَ عَنْهُ أَهَدِيَّةٌ أَمْ صَدَقَةٌ فَإِنْ قِيلَ صَدَقَةٌ لَمْ يَأْكُلْ وَإِنْ قِيلَ هَدِيَّةٌ بَسَطَ يَدَهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন ব্যক্তিকে গরীব ও অভাবী মনে করে তার সাহায্য-সহযোগিতা হিসাবে সওয়াবের নিয়্যতে যাকিছু দান করা হয়, এটাকে শরী‘আতের পরিভাষায় সদাকা বলা হয়। চাই এটা ফরয-ওয়াজিব হোক- যেমন, যাকাত অথবা ফিতরা কিংবা নফল হোক- যাকে সাধারণত আমরা সাহায্য ও খয়রাত বলে থাকি। তবে হাদিয়া বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। ভক্তি ভালবাসা ও সম্পর্কের কারণে নিজের কোন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্যক্তির সামনে কোন কিছু পেশ করাকে হাদিয়া বলে।

সদাকাদাতার অবস্থান উপরে থাকে, আর গ্রহীতার নীচে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রকার সদাকা গ্রহণ করতেন না। আর হাদিয়াদাতা যেহেতু এর মাধ্যমে ভক্তি-শ্রদ্ধা, সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রকাশ ঘটায় এবং এটাকে নিজের আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে, এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা খুশী মনে গ্রহণ করতেন। হাদিয়া দাতাকে দু‘আ দিতেন এবং অনেক সময় নিজের পক্ষ থেকে তাকে হাদিয়া দিয়ে এর বদলা দিতেন। কিন্তু কেউ যদি সদাকা হিসাবে কিছু নিয়ে আসত, তাহলে তিনি এটা এর হকদারদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান