আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৩৩- ঋন গ্রহন,পরিশোধ,নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেউলিয়া/নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৩২
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৯০
- ঋন গ্রহন,পরিশোধ,নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেউলিয়া/নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়
১৪৮৬. উট ধার নেয়া
২২৩২। আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) ....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে তার পাওনা আদায়ের কড়া তাগাদা দিল। সাহাবায়ে কিরাম তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের কথা বলার অধিকার রয়েছে। তার জন্য একটি উট কিনে আন এবং তাকে তা দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার উটের চাইতে বেশী বয়সের উট ছাড়া আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, সেটিই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কারণ, তোমাদের উত্তম লোক সেই, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।
كتاب في الاستقراض وأداء الديون والحجر والتفليس
باب اسْتِقْرَاضِ الإِبِلِ
2390 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، بِمِنًى يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَجُلًا تَقَاضَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَغْلَظَ لَهُ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُهُ، فَقَالَ: «دَعُوهُ، فَإِنَّ لِصَاحِبِ الحَقِّ مَقَالًا، وَاشْتَرُوا لَهُ بَعِيرًا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ» وَقَالُوا: لاَ نَجِدُ إِلَّا أَفْضَلَ مِنْ سِنِّهِ، قَالَ: «اشْتَرُوهُ، فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ، فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বরং তার আগে আরবে সাধারণ প্রচলিত প্রথা ছিল, এক ব্যক্তি তার প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তি হতে উট কর্জ গ্রহণ করত। আর এটা টাকা পয়সার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং এরূপে ধার্য হত যে, এর সমবয়সী এ জাতীয় অন্য উট-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথানুযায়ী এক সময় কোন লোকের নিকট হতে উট কর্জ গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত নির্ধারিত সময় এলে সে তাগাদা দিতে এসেছিল। সে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার বিপরীতে কঠোর নীতি অবলম্বন করল। সাহাবীগণের মধ্যে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তার সাথে কঠোরতা অবলম্বনের ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তাকে কিছু বলো না। আমার প্রতি তার অধিকার রয়েছে। পাওনাদারের শক্ত কথা বলার অধিকার আছে। তবে তোমরা তার উটের ন্যায় একটি উট ক্রয় করে তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ অনুরূপ উট খুঁজলেন। কোথাও পেলেন না; তবে বয়স ও গঠনে সেটি থেকে বড় ও উত্তম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁরা ফেরত এসে নবী করীম ﷺকে একথাই বললেন। তিনি বললেন, যেটি বড় ও উত্তম সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। সাথে সাথে বললেন, যে ব্যক্তি অধিক ভাল ও শ্রেষ্ঠ পরিশোধ করে সেই অধিক উত্তম। আলোচ্য হাদীসে উন্মতের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে, তা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)