কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
২৪. হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ
হাদীস নং: ২৯৬২
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৬২
হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ
তাওয়াফ শেষে দু’রাকআত নামায আদায়ের পর কথা বলা
২৯৬৫. আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাতবার তাওয়াফ করেন এবং তিনবার রমল করেন এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন। এরপর তিনি পড়েনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) অর্থঃ ″তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর।″ (সূরা বাকারাঃ ১২৫) পরে দু’রাকআত নামায আদায় করেন। এ সময় তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও কাবার মধ্যে রাখেন। পরে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। তা হতে বের হয়ে বললেনঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) ″নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন।″ তােমরা আরম্ভ কর ঐস্থান থেকে যার কথা আল্লাহ প্রথমে উল্লেখ করেছেন।
كتاب مناسك الحج
الْقَوْلُ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ سَبْعًا رَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ثُمَّ قَرَأَ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَصَلَّى سَجْدَتَيْنِ وَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ ثُمَّ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَابْدَءُوا بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রত্যেক তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদের 'ইসতিলাম' দ্বারা শুরু হয়। ইসতিলামের অর্থ হচ্ছে হাজরে আসওয়াদকে চুমু খাওয়া অথবা এর উপর হাত রেখে অথবা হাত ঐ দিকে করে ঐ হাতকেই চুমু দেওয়া। এ ইসতিলাম করেই তাওয়াফ শুরু করা হয় এবং প্রতিটি তাওয়াফে খানায়ে কাবাকে সাতবার প্রদক্ষিণ করা হয়।
"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)