কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২৪. হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ

হাদীস নং: ৩০৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪৪
হজ্ব আদায়ের পদ্ধতির বিবরণ
মুযদালিফায় যে ব্যক্তি ফজরের নামায ইমামের সঙ্গে আদায় করতে পারেনি
৩০৪৭. আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... বুকায়র ইবনে আতা (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়া’মার দারলামী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি আরাফায় নবী (ﷺ)-কে দেখেছি, তার কাছে নাজদ হতে কতিপয় লোক এসে তাদের একজনকে তারা প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, সে তাকে হজ্জ সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে, তিনি বলেনঃ হজ্জ হলো আরাফায় অবস্থান। যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ভোরের নামাযের পূর্বে সেখানে আগমন করলো, সে তার হজ্জ পেল। মিনার তিন দিন, যে ব্যক্তি দুই দিন পর তাড়াতাড়ি চলে যায়, তার কোন পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি দেরী করে তার কোন পাপ নেই। তারপর তিনি একজন লোককে তার পশ্চাতে আরোহণ করান, যিনি এ কথাগুলি লোকের মধ্যে প্রচার করছিলেন।
كتاب مناسك الحج
فِيمَنْ لَمْ يُدْرِكْ صَلَاةَ الصُّبْحِ مَعَ الْإِمَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثَنِي بُكَيْرُ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَعْمَرَ الدِّيلِيَّ قَالَ شَهِدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَفَةَ وَأَتَاهُ نَاسٌ مِنْ نَجْدٍ فَأَمَرُوا رَجُلًا فَسَأَلَهُ عَنْ الْحَجِّ فَقَالَ الْحَجُّ عَرَفَةُ مَنْ جَاءَ لَيْلَةَ جَمْعٍ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ فَقَدْ أَدْرَكَ حَجَّهُ أَيَّامُ مِنًى ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ مَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَرْدَفَ رَجُلًا فَجَعَلَ يُنَادِي بِهَا فِي النَّاسِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যেহেতু ওকূফে আরাফার উপর হজ্ব নির্ভর করে, তাই এর মধ্যে এতটুকু সুযোগ রাখা হয়েছে যে, কেউ যদি ৯ই যিলহজ্ব দিনের বেলা আরাফায় পৌঁছতে না পারে, (যা হচ্ছে ওকূফের আসল সময়,) সে যদি পরবর্তী রাতের কোন অংশেও সেখানে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ওকূফ আদায় হয়ে যাবে এবং সে হজ্ব থেকে বঞ্চিত গণ্য হবে না।

আরাফার দিনের পরের দিনটি অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্ব হচ্ছে কুরবানীর দিন। এ দিন একটি জামরায় রমী, কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় এবং এ দিনেই মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হয়। তারপর মিনায় বেশীর চেয়ে বেশী তিন দিন আর কমপক্ষে দু'দিন অবস্থান করে তিনটি জামরাতেই পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোন ব্যক্তি যদি ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে তার উপর কোন গুনাহ্ বর্তাবে না। আর কেউ যদি ১৩ তারিখও অবস্থান করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে নেয়, তাহলে এটাও জায়েয।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান