কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

২৯. ওয়াক্ফ (আল্লাহর জন্য মাল দান করা) অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬০১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬০১
ওয়াক্ফ (আল্লাহর জন্য মাল দান করা) অধ্যায়
ওয়াকফ লেখার নিয়ম এবং এ প্রসঙ্গে ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে ইবনে আওনের বর্ণনায় বিরোধ
৩৬০২. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাযিঃ) খায়বরে একখণ্ড জামি পান, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে তিনি বলেন, যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে তার মূলটি রেখে তা থেকে উৎপন্ন দ্রব্য) সাদ্‌কা করতে পার। এভাবে যে, তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না, তার কেউ ওয়ারিস হবে না, আর তা সাদ্‌কা করা যাবে, গরীবদের ও আত্মীয়দের মধ্যে, দাস-মুক্তকরণে, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের এবং মেহমানদের জন্য। যে তার তত্ত্বাবধায়ক হবে, তার জন্য তা থেকে ন্যায়সংগতভাবে ভক্ষণ করায় কোন পাপ হবে না। আর তার বন্ধুদের খাওয়ানোতে। কিন্তু এর দ্বারা সে মালদার হতে পারবে না।
كتاب الإحباس
الْأَحْبَاسُ كَيْفَ يُكْتَبُ الْحَبْسُ وَذِكْرُ الِاخْتِلَافِ عَلَى ابْنِ عَوْنٍ فِي خَبَرِ ابْنِ عُمَرَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ السَّمَّانُ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ أَصَابَ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَأْمِرُهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا فَحَبَّسَ أَصْلَهَا أَنْ لَا تُبَاعَ وَلَا تُوهَبَ وَلَا تُورَثَ فَتَصَدَّقَ بِهَا عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَالرِّقَابِ وَفِي الْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لَا جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقَهُ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)

পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।

(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)