কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
২৯. ওয়াক্ফ (আল্লাহর জন্য মাল দান করা) অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬০৬
ওয়াক্ফ (আল্লাহর জন্য মাল দান করা) অধ্যায়
মসজিদের জন্য ওয়াকফ করা
৩৬০৭. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুসায়ন ইবনে আব্দুর রহমান বনী তামীমের আমর ইবনে জাওয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন এ প্রসঙ্গে যে, আমি তাকে বললাম, আপনি আহনাফ ইবনে কায়স (রাযিঃ)-এর (সাহাবিগণের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব) পৃথক থাকা সম্পর্কে আপনার অভিমত বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি আহনাকে বলতে শুনেছি, আমি হজ্জ উপলক্ষে মদীনায় আসলাম। আমরা আমাদের মনযিলে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ লোক মসজিদে একত্রিত হচ্ছে। আমি গিয়ে দেখলাম, লোক মসজিদে একত্রিত রয়েছে। তাদের মাঝে রয়েছেন- আলী ইবনে আবু তালিব, যুবায়র, তালহা এবং সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ)। আমি যখন তাদের নিকট দাঁড়ালাম তখন বলা হলঃ এই যে, উসমান ইবনে আফফান এসে গেছেন। তার গায়ে ছিল একখানা হলুদ বর্ণের চাদর।
রাবী বলেন, আমি আমার সাথীকে বললাম, তুমি এখানে অবস্থান কর, দেখি উসমান (রাযিঃ) কি বলেন। উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ এখানে কি আলী (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি তালহা (রাযিঃ) আছেন? এবং এখানে কি সা’দ (রাযিঃ) আছেন? তারা বললেনঃ হ্যাঁ (আমরা এখানে আছি)। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ তাআলার কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি অমুক অমুক গােত্রের (উটের) বাথান ক্রয় করবে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি তা ক্রয় করে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ আমি অমুক (উটের) বাথান খরিদ করেছি। তিনি বললেনঃ এখন তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য (ওয়াকফ করে) দিয়ে দাও, তাহলে এর সওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ।
তিনি আবার বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি ’রূমা’ কূপ ক্রয় করবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি (তা ক্রয় করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ আমি 'রূমা’ কূপ ক্রয় করেছি। তখন তিনি বললেনঃ এখন তা তুমি মুসলমানদের পানি পান করার জন্য (ওয়াকফ করে) দিয়ে দাও, আর এর সওয়াব তুমি পাবে। তারা বললেনঃ হ্যাঁ।
তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি অনটনগ্রস্ত (তাবুক) যুদ্ধের বাহিনীর যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেবে, আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরপর আমি তাদের জন্য এমন যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেই যে, ঐ বাহিনীর কোন লোকের একটি রশির বা একটি লাগামেরও অভাব হয়নি? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। উসমান (রাযিঃ) এরপর বলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন।
রাবী বলেন, আমি আমার সাথীকে বললাম, তুমি এখানে অবস্থান কর, দেখি উসমান (রাযিঃ) কি বলেন। উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ এখানে কি আলী (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাযিঃ) আছেন? এখানে কি তালহা (রাযিঃ) আছেন? এবং এখানে কি সা’দ (রাযিঃ) আছেন? তারা বললেনঃ হ্যাঁ (আমরা এখানে আছি)। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ তাআলার কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি অমুক অমুক গােত্রের (উটের) বাথান ক্রয় করবে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি তা ক্রয় করে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ আমি অমুক (উটের) বাথান খরিদ করেছি। তিনি বললেনঃ এখন তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য (ওয়াকফ করে) দিয়ে দাও, তাহলে এর সওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ।
তিনি আবার বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি ’রূমা’ কূপ ক্রয় করবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি (তা ক্রয় করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ আমি 'রূমা’ কূপ ক্রয় করেছি। তখন তিনি বললেনঃ এখন তা তুমি মুসলমানদের পানি পান করার জন্য (ওয়াকফ করে) দিয়ে দাও, আর এর সওয়াব তুমি পাবে। তারা বললেনঃ হ্যাঁ।
তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি অনটনগ্রস্ত (তাবুক) যুদ্ধের বাহিনীর যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেবে, আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরপর আমি তাদের জন্য এমন যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেই যে, ঐ বাহিনীর কোন লোকের একটি রশির বা একটি লাগামেরও অভাব হয়নি? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। উসমান (রাযিঃ) এরপর বলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন।
كتاب الإحباس
بَاب وَقْفِ الْمَسَاجِدِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنْبَأَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُمَرَ بْنِ جَاوَانَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ وَذَاكَ أَنِّي قُلْتُ لَهُ أَرَأَيْتَ اعْتِزَالَ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ مَا كَانَ قَالَ سَمِعْتُ الْأَحْنَفَ يَقُولُ أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ وَأَنَا حَاجٌّ فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنَازِلِنَا نَضَعُ رِحَالَنَا إِذْ أَتَى آتٍ فَقَالَ قَدْ اجْتَمَعَ النَّاسُ فِي الْمَسْجِدِ فَاطَّلَعْتُ فَإِذَا يَعْنِي النَّاسَ مُجْتَمِعُونَ وَإِذَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ نَفَرٌ قُعُودٌ فَإِذَا هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرُ وَطَلْحَةُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ فَلَمَّا قُمْتُ عَلَيْهِمْ قِيلَ هَذَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ قَدْ جَاءَ قَالَ فَجَاءَ وَعَلَيْهِ مُلَيَّةٌ صَفْرَاءُ فَقُلْتُ لِصَاحِبِي كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَنْظُرَ مَا جَاءَ بِهِ فَقَالَ عُثْمَانُ أَهَاهُنَا عَلِيٌّ أَهَاهُنَا الزُّبَيْرُ أَهَاهُنَا طَلْحَةُ أَهَاهُنَا سَعْدٌ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يَبْتَاعُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَابْتَعْتُهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنِّي ابْتَعْتُ مِرْبَدَ بَنِي فُلَانٍ قَالَ فَاجْعَلْهُ فِي مَسْجِدِنَا وَأَجْرُهُ لَكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يَبْتَاعُ بِئْرَ رُومَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ قَدْ ابْتَعْتُ بِئْرَ رُومَةَ قَالَ فَاجْعَلْهَا سِقَايَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَأَجْرُهَا لَكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يُجَهِّزُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ فَجَهَّزْتُهُمْ حَتَّى مَا يَفْقِدُونَ عِقَالًا وَلَا خِطَامًا قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে হযরত উসমান (রা)-এর দু'টি ওয়াকফের কথা উল্লিখিত হয়েছে, যা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহ ও আহবানে করেছিলেন। প্রথমত বীরে রূমার ওয়াকফ, যা সম্ভবত ইসলামের প্রথম ওয়াকফ হবে। কেননা, এটা তখন সংগঠিত হয়েছিল যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজরত করে মদীনায় এলেন। এর পূর্বে মক্কায় কোন প্রকার ওয়াকফের কল্পনাই করা যায় না। দ্বিতীয় ওয়াকফ সেই জমি যা তিনি ক্রয় করে মসজিদে নববীতে অন্তর্ভুক্ত করে দেন।
আলোচ্য হাদীসে উপদেশ গ্রহণের বিরাট উপাদান রয়েছে, যা হযরত উসমান (রা)-এর এই ফযীলত ও মর্যাদা এবং এই সব কার্যাবলীও সেই সব সুসংবাদের অন্তর্গত যা রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে করেছিলেন। তাঁর কালের লোকজন সাধারণভাবে তা অবগত ছিলেন। আর এসব কথা এরূপ প্রসিদ্ধ ও সর্বজনমান্য ছিল যে, কারো অস্বীকারের সাহস ছিল না। তবে যাদের ওপর শয়তান সোয়ার হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্য যাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা এতদসত্ত্বেও অতিশয় নির্দয় পন্থায় তাঁকে শহীদ করে। এরপর উম্মতের প্রতি এক সামগ্রিক শাস্তি নেমে আসে যে, পরস্পর খুন-খারাবীর এক অশেষ ধারা চালু হয়ে পড়ে।
আলোচ্য হাদীসে উপদেশ গ্রহণের বিরাট উপাদান রয়েছে, যা হযরত উসমান (রা)-এর এই ফযীলত ও মর্যাদা এবং এই সব কার্যাবলীও সেই সব সুসংবাদের অন্তর্গত যা রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে করেছিলেন। তাঁর কালের লোকজন সাধারণভাবে তা অবগত ছিলেন। আর এসব কথা এরূপ প্রসিদ্ধ ও সর্বজনমান্য ছিল যে, কারো অস্বীকারের সাহস ছিল না। তবে যাদের ওপর শয়তান সোয়ার হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্য যাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা এতদসত্ত্বেও অতিশয় নির্দয় পন্থায় তাঁকে শহীদ করে। এরপর উম্মতের প্রতি এক সামগ্রিক শাস্তি নেমে আসে যে, পরস্পর খুন-খারাবীর এক অশেষ ধারা চালু হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: