কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
৩১. বিশেষ প্রকারের দান
হাদীস নং: ৩৬৮২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৮২
বিশেষ প্রকারের দান
’নাহল’ সম্পর্কিত নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ
৩৬৮৩. আবু দাউদ (রাহঃ) ......... নু’মান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মাতা আমার পিতার নিকট আমার জন্য কিছু দান চাইলে তিনি আমাকে তা দান করলেন। তখন আমার মাতা বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবে না। তিনি [নুমান (রাযিঃ)] বলেন, আমার পিতা আমার হাত ধরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে গেলেন। ঐ সময় আমি ছােট বালক ছিলাম।
তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর মা, রওয়াহার কন্যা আমার নিকট কিছু দান চায় এবং এতে আপনি সাক্ষী থাকলে সে সন্তুষ্ট হবে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তুমি একে যা দান করেছে তাদেরকেও কি এই দানের অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না, কারণ আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।
তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর মা, রওয়াহার কন্যা আমার নিকট কিছু দান চায় এবং এতে আপনি সাক্ষী থাকলে সে সন্তুষ্ট হবে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তুমি একে যা দান করেছে তাদেরকেও কি এই দানের অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)) বললেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না, কারণ আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।
كتاب النّحل
ذِكْرُ اخْتِلَافِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ فِي النُّحْلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ قَالَ سَأَلَتْ أُمِّي أَبِي بَعْضَ الْمَوْهِبَةِ فَوَهَبَهَا لِي فَقَالَتْ لَا أَرْضَى حَتَّى أُشْهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَخَذَ أَبِي بِيَدِي وَأَنَا غُلَامٌ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ هَذَا ابْنَةَ رَوَاحَةَ طَلَبَتْ مِنِّي بَعْضَ الْمَوْهِبَةِ وَقَدْ أَعْجَبَهَا أَنْ أُشْهِدَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ يَا بَشِيرُ أَلَكَ ابْنٌ غَيْرُ هَذَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَوَهَبْتَ لَهُ مِثْلَ مَا وَهَبْتَ لِهَذَا قَالَ لَا قَالَ فَلَا تُشْهِدْنِي إِذًا فَإِنِّي لَا أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)