আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৩৯- দাসমুক্তির অধ্যায়

হাদীস নং: ২৩৮২
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৫০
- দাসমুক্তির অধ্যায়
১৫৯৮. গোলামের উপর নির্যাতন করা এবং আমার গোলাম ও আমার বাঁদী এরূপ বলা অপছন্দনীয়। আল্লাহ তাআলার বাণী এবং তোমাদের গোলাম বাঁদীদের মধ্যে যারা সৎ.....(২৪ঃ ৩২)। তিনি আরো বলেনঃ অপরের অধিাকারভুক্ত এক গোলামের...............(১৬:৭৫) আরো বলেনঃ তারা স্ত্রী লোকটির স্বামীকে দরজার কাছে পেলো। (১২ঃ ২৫)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, তোমাদের ঈমানদার বাঁদীদের........(৪ঃ ২৫) নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের নেতার জন্য দাঁড়িয়ে যাও। আরো ইরশাদ হয়েছে,তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলবে, (১২ঃ ৪২)। অর্থাৎ তোমার মালিকের কাছে।
২৩৮২। মুসাদ্দদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, গোলাম যদি আপন মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং আপন প্রতিপালকের উত্তম ইবাদাত করে, তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।
كتاب العتق
باب كَرَاهِيَةِ التَّطَاوُلِ عَلَى الرَّقِيقِ وَقَوْلِهِ: عَبْدِي أَوْ أَمَتِي وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} [النور: 32]، وَقَالَ: {عَبْدًا مَمْلُوكًا} [النحل: 75]، {وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى البَابِ} [يوسف: 25]، وَقَالَ: {مِنْ فَتَيَاتِكُمُ المُؤْمِنَاتِ} [النساء: 25] وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ» وَ {اذْكُرْنِي عِنْدَ رَبِّكَ} [يوسف: 42] عِنْدَ سَيِّدِكَ،
2550 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا نَصَحَ العَبْدُ سَيِّدَهُ، وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হেদায়াত ও শিক্ষার এটা একটা মূলনীতি যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিটি শ্রেণীকে তিনি উৎসাহিত করেন ও তাকীদ করেন যে, তারা যেন অন্যদের অধিকার আদায় করে এবং এ অধিকার আদায়কেই যেন নিজের সফলতা মনে করে।

মনিব ও মালিকদেরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন গোলাম ও অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করে, তাদেরকে নিজের ভাই মনে করে এবং পরিবারের একজন সদস্যের মত মনে করে। অপরদিকে গোলাম ও চাকরদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন মনিব ও মালিকদের কল্যাণকামী ও বিশ্বস্ত হয়ে থাকে।

আমাদের এ দুনিয়ার সকল অশান্তি ও বিপর্যয়ের মূল শিকড় এটাই যে, প্রত্যেকেই অন্যের অধিকার দিতে নারায অথবা কমপক্ষে এ ব্যাপারে বেপরোয়া ও উদাসীন। অথচ নিজের অধিকার অন্যের নিকট থেকে আদায় করে নিতে; বরং ছিনিয়ে আনতে সবধরনের বল প্রয়োগকে সঠিক মনে করা হয়। এটাই দুনিয়াটাকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছে। আর সে পর্যন্ত এ দুনিয়া শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত থাকবে, যে পর্যন্ত অধিকার লাভ ও এটা ছিনিয়ে আনার স্থলে হক ও অধিকার আদায়ের উপর জোর না দেওয়া হবে। যদি জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি থেকে আমরা বঞ্চিত না হয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে এ বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)