কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

৫১. বিভিন্ন (হালাল-হারাম) পানীয়ের বিধান

হাদীস নং: ৫৫৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৪৮
বিভিন্ন (হালাল-হারাম) পানীয়ের বিধান
আধাপাকা ও হলদে হয়ে ওঠা খেজুরের মিশ্রণ
৫৫৪৭. ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কদুর খোলে, হানতাম, মুযাফফাত এবং নকীরে পানীয় তৈরী করতে এবং আধাপাকা-ও হলদে হয়ে ওঠা খেজুর মিশাতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الأشربة
خَلِيطُ الْبَلَحِ وَالزَّهْوِ
أَخْبَرَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَأَنْ يُخْلَطَ الْبَلَحُ وَالزَّهْوُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

খেজুর, মুনাক্কা অথবা আঙ্গুর কিংবা এ জাতীয় কোন জিনিস যদি পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এতক্ষণ পড়ে থাকে যে, এর স্বাদ ও মিষ্টতা পানিতে এসে যায়, কিন্তু নেশার অবস্থা সৃষ্টি না হয়, তাহলে এ পানিকে 'নবীয' বলে। আরবদের মধ্যে এরও প্রচলন ছিল এবং কোন কোন হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এটা পান করতেন।

এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণা অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)