কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

ভূমিকা অধ্যায় (ইত্তেবায়ে সুন্নাহ,ইলম ও সাহাবা রাঃ এর মর্যাদা সংশ্লিষ্ট)

হাদীস নং: ১৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৩
ভূমিকা অধ্যায় (ইত্তেবায়ে সুন্নাহ,ইলম ও সাহাবা রাঃ এর মর্যাদা সংশ্লিষ্ট)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীসের মর্যাদা দান এবং যে এর বিরোধিতা করে, তার প্রতি কঠোরতা ।
১৩। নাসার ইবন আলী জাহযামী ( র )...... আবু রাফি ( রা ) থেকে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ (সা ) বলেছেনঃ আমি যেন তোমাদের মাঝে কাউকে এমন না পাই যে, সে তার খাটের উপর ঠেস দিয়ে বসে থাকবে। আর আমি যা আদেশ দিয়েছি অথবা যা থেকে নিষেধ করেছি, তা তার কাছে পৌঁছলে সে তখন বলবে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না, আমরা আল্লাহর কিভাবে যা পেয়েছি, তারই অনুসরণ করি।
أبواب السنة أو افتتاح الكتاب في الإيمان وفضائل الصحابة والعلم
بَاب تَعْظِيمِ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَالتَّغْلِيظِ عَلَى مَنْ عَارَضَه
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، فِي بَيْتِهِ أَنَا سَأَلْتُهُ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، ثُمَّ مَرَّ فِي الْحَدِيثِ قَالَ أَوْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الأَمْرُ مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে এ কথা বুঝা চাই যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যে ওহী আসত তার দু'টি পদ্ধতি ছিল। ১. নির্দিষ্ট শব্দাবলি ও রচনার আকৃতিতে। এটাকে 'ওহী মাতলু' বলা হয়। (অর্থাৎ সেই ওহী যা তিলাওয়াত করা হয়) এটা কুরআন মজীদের অবস্থা। ২. সেই ওহী যা তাঁর প্রতি বিষয়-বস্তু সম্বন্ধে ইলকা ও ইল্হাম হত। তিনি সেগুলো তাঁর ভাষায় বলতেন, কিংবা কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। এটাকে 'ওহী গায়রে মাতলু' বলে। (অর্থাৎ যে ওহী তিলাওয়াত করা হয় না) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ দীনী দিকনির্দেশ ও বাণীসমূহের গুরুত্ব এটাই। বস্তুত এর ভিত্তি তো আল্লাহর ওহীর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এটা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এ বিষয় প্রতিভাত করে ছিলেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে এরূপ লোক জন্ম লাভ করবে, যারা এ কথা বলে লোকজনকে গোমরাহ ও ইসলামী শরী'আতকে অকেজো করবে যে, দীনের আহকাম কেবল তাই যা কুরআনে রয়েছে। আর যা কুরআনে নেই তা দীনী হুকুমই নয়। আলোচ্য হাদীসে রাসূল্লাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এ ফিতনা থেকে সাবধান করেছেন। বলেছেন, হিদায়াতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে। এতদসাথে এ ছাড়াও ওহী গায়রে মাতলুর মাধ্যমে আহকাম দেওয়া হয়েছে। আর তা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

প্রকৃত কথা হচ্ছে, যে সব লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহকে দীনের দলীল হতে অস্বীকার করে, তারা ইসলামী শরী'আতের পূর্ণ শিকল থেকে স্বাধীন হতে চায়। কুরআন মজীদের ব্যাপার হচ্ছে, তাতে মৌলিক শিক্ষা ও আহ্কাম রয়েছে। এর জন্য সেই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যেগুলো ছাড়া এ আহকামের ওপর আমলই করা যেতে পারে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্য কিংবা বাণী সম্পর্কিত হাদীসসমূহ থেকেই জানা যায়। যেমন কুরআন মজীদে নামাযের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নামায কিভাবে আদায় করা হবে? কোন্ কোন্ সময়ে আদায় করা হবে? এবং কোন্ ওয়াক্তে কত রাকাআত নামায আদায় করা হবে? এটা কুরআনের কোথাও নেই। হাদীসসমূহ থেকেই এসব বিস্তারিত জানা যায়।

এভাবে কুরআন মজীদে যাকাতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এটা বলা হয়নি কোন্ হিসাবে যাকাত বের করা হবে। সারা জীবনে একবার দেওয়া হবে অথবা প্রতি বছর, কিংবা প্রতি মাসে দেওয়া হবে? এভাবে কুরআনের অধিকাংশ আহকামের অবস্থা এরূপই। বস্তুত দলীল হওয়ার ব্যাপারে হাদীস অস্বীকারের পরিণতি হচ্ছে গোটা দীনী শৃঙ্খলাকে অস্বীকার করা। এজন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিশেষভাবে সাবধান করেছেন। এ হিসাবে আলোচ্য হাদীস হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মু'জিযা বিশেষ। উম্মতের মধ্যে সেই ফিতনা সৃষ্টি হবে বলে (হাদীস অস্বীকার)-এর সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর যুগে এবং সাহাবা ও তাবিঈনের যুগে বরং তাবে তাবিঈনের যুগসমূহেও কল্পনা করা যেত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান