আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৫- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৬৪
- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
১৭২৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তোমরা ইয়াতীমদের যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয় এবং তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অন্যায়ভাবে ঐ সম্পদ হতে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে অভাবমুক্ত সে যেন তাদের সম্পদ হতে নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। .... এক নির্ধারিত অংশ পর্যন্ত। (৪ঃ ৬-৭) حسيبا অর্থ যথেষ্ট আর অসী ইয়াতীমের মাল কিভাবে ব্যবহার করবে এবং তার শ্রমের অনুপাতে কী পরিমাণ সে ভোগ করতে পারবে
২৫৭৬। হারূন (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে উমর (রাযিঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সাদ্কা করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। উমর (রাযিঃ) বলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সাদ্কা করতে চাই।’ নবী (ﷺ) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সাদ্কা কর, যে, তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল (আল্লাহ্র পথে) দান করা হবে। তারপর উমর (রাযিঃ) সেটি এভাবেই সাদ্কা করলেন। তার এ সাদ্কা ব্যয় হবে আল্লাহর রাস্তায়, দাস মুক্তির ব্যাপারে, মিসকীন, মেহমান, মুসাফির ও আত্মীয়দের জন্য। এর যে মুতাওল্লালী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ আহার করলে কিংবা বন্ধু বান্ধবকে খাওয়ালে কোন দোষ নেই। তবে তা সঞ্চয় করতে পারেব না।
كتاب الوصايا
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَابْتَلُوا اليَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ، فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ، وَلاَ تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا، وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ، فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا، لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ، وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الوَالِدَانِ، وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ [ص:10] نَصِيبًا مَفْرُوضًا} [النساء: 7] {حَسِيبًا} [النساء: 6] «يَعْنِي كَافِيًا، وَلِلْوَصِيِّ أَنْ يَعْمَلَ فِي مَالِ اليَتِيمِ وَمَا يَأْكُلُ مِنْهُ بِقَدْرِ عُمَالَتِهِ»
حَدَّثَنَا هَارُونُ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ عُمَرَ، تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُقَالُ لَهُ ثَمْغٌ، وَكَانَ نَخْلاً، فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي اسْتَفَدْتُ مَالاً وَهُوَ عِنْدِي نَفِيسٌ فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ، لاَ يُبَاعُ وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، وَلَكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ ". فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ، فَصَدَقَتُهُ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفِي الرِّقَابِ وَالْمَسَاكِينِ وَالضَّيْفِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَلِذِي الْقُرْبَى، وَلاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهُ أَنْ يَأْكُلَ مِنْهُ بِالْمَعْرُوفِ، أَوْ يُوكِلَ صَدِيقَهُ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ بِهِ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)