কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৫. নামাযের আদ্যোপান্ত বর্ণনা এবং সুন্নাতসমূহ
হাদীস নং: ১১০৬
আন্তর্জাতিক নং: ১১০৬
নামাযের আদ্যোপান্ত বর্ণনা এবং সুন্নাতসমূহ
জুমু'আর দিনের খুতবা প্রসঙ্গে
১১০৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....... জাবির ইবন সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর (প্রথম খুতবা শেষ করে) বসতেন। এরপর দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর খুতবা এবং তাঁর সালাত ছিল মধ্যম ধরনের।
أبواب إقامة الصلوات والسنة فيها
بَاب مَا جَاءَ فِي الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ آيَاتٍ وَيَذْكُرُ اللَّهَ وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا وَصَلاَتُهُ قَصْدًا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ বর্ণনায় হযরত জাবির ইবন সামুরা রাযি. নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে অনেক নামায পড়েছেন এবং তাঁর অনেক খুতবা শুনেছেন। তাঁর সে নামায ও খুতবা কেমন হত, খুব বেশি লম্বা না বেশি খাটো, না অন্যকিছু? তিনি জানাচ্ছেন, তা হত মাঝামাঝি পরিমাণ, বেশি লম্বাও না এবং বেশি খাটোও না।
নামায বেশি লম্বা না করার অর্থ এই নয় যে, নামায পূর্ণাঙ্গ করা হত না। ফরয- ওয়াজিবের পাশাপাশি যেসব সুন্নত-মুস্তাহাব আছে তাও তিনি রক্ষা করতেন, যেমন তাঁর নামায সম্পর্কিত হাদীছসমূহ দ্বারা জানা যায়।
তবে সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর ইমামের উচিত নামায বেশি লম্বা না করা, যাতে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অন্যান্য জরুরত ব্যস্ত মুক্তাদীদের কষ্ট না হয়। কোনও কোনও হাদীছে যে ইমামকে নামায সংক্ষেপ করতে বলা হয়েছে তার অর্থ এটাই। অর্থাৎ সুন্নত-মুস্তাহাবের পর বেশি দীর্ঘ না করা। উদাহরণত "ইশা ও আসরের নামাযে যে কিরাআত পড়া মুস্তাহাব তাকে 'আওসাতে মুফাসসাল' বলে। সূরা বুরূজ থেকে বায়্যিনাহ পর্যন্ত সূরাসমূহ। এর আগের সূরা হুজুরাত থেকে বুরূজ পর্যন্ত সূরাসমূহকে তিওয়ালে মুফাসসাল' বলে। এসব সূরা ফজর ও যোহরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। ইমামের উচিত সাধারণভাবে এ নিয়ম রক্ষা করা। যদি ‘ইশার নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকে পড়ে আর তাতে মুসল্লীগণের কষ্ট হয়, তবে তা পড়া সমীচীন হবে না। হযরত মু'আয ইবন জাবাল রাযি. কিছুদিন এরূপ করেছিলেন। তাতে এক মুসল্লীর কষ্ট হয় এবং তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করেন। তা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মু'আয রাযি.-এর প্রতি অত্যন্ত রাগ করেন এবং তাঁকে আওসাতে মুফাসসাল থেকে পড়তে বলে দেন। এর দ্বারা বোঝা গেল ইমাম সুন্নত-মুস্তাহাবের দিকে লক্ষ করে নামায পড়াবেন। মুসল্লীদের কষ্ট হয় বলে সুন্নত-মুস্তাহাবও ছেড়ে দিয়ে নামায সংক্ষেপ করবে, সে কথা বলা হয়নি।
এমনিভাবে তাঁর খুতবা দীর্ঘ না হলেও এত সংক্ষেপও হত না যে, বক্তব্য বিষয় অস্পষ্ট থেকে যেত। খুতবার উদ্দেশ্য তো মানুষকে দীনী কথা বোঝানো। যে সংক্ষেপের কারণে তা বুঝতে কষ্ট হয় সে সংক্ষেপ দূষণীয়। খুতবায় তা পসন্দনীয় নয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুতবা দীর্ঘ না হলেও অতি সংক্ষিপ্তও হত না; বরং মাঝামাঝি পর্যায়ের হত, যা দ্বারা তাঁর বক্তব্য শ্রোতাগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারাও 'ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা রক্ষার গুরুত্ব বোঝা যায়।
খ. ইমামের কর্তব্য সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর নামায অতি দীর্ঘ না করা।
গ. জুমু'আর খুতবাও বেশি লম্বা না করা বাঞ্ছনীয়।
নামায বেশি লম্বা না করার অর্থ এই নয় যে, নামায পূর্ণাঙ্গ করা হত না। ফরয- ওয়াজিবের পাশাপাশি যেসব সুন্নত-মুস্তাহাব আছে তাও তিনি রক্ষা করতেন, যেমন তাঁর নামায সম্পর্কিত হাদীছসমূহ দ্বারা জানা যায়।
তবে সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর ইমামের উচিত নামায বেশি লম্বা না করা, যাতে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অন্যান্য জরুরত ব্যস্ত মুক্তাদীদের কষ্ট না হয়। কোনও কোনও হাদীছে যে ইমামকে নামায সংক্ষেপ করতে বলা হয়েছে তার অর্থ এটাই। অর্থাৎ সুন্নত-মুস্তাহাবের পর বেশি দীর্ঘ না করা। উদাহরণত "ইশা ও আসরের নামাযে যে কিরাআত পড়া মুস্তাহাব তাকে 'আওসাতে মুফাসসাল' বলে। সূরা বুরূজ থেকে বায়্যিনাহ পর্যন্ত সূরাসমূহ। এর আগের সূরা হুজুরাত থেকে বুরূজ পর্যন্ত সূরাসমূহকে তিওয়ালে মুফাসসাল' বলে। এসব সূরা ফজর ও যোহরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। ইমামের উচিত সাধারণভাবে এ নিয়ম রক্ষা করা। যদি ‘ইশার নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকে পড়ে আর তাতে মুসল্লীগণের কষ্ট হয়, তবে তা পড়া সমীচীন হবে না। হযরত মু'আয ইবন জাবাল রাযি. কিছুদিন এরূপ করেছিলেন। তাতে এক মুসল্লীর কষ্ট হয় এবং তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করেন। তা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মু'আয রাযি.-এর প্রতি অত্যন্ত রাগ করেন এবং তাঁকে আওসাতে মুফাসসাল থেকে পড়তে বলে দেন। এর দ্বারা বোঝা গেল ইমাম সুন্নত-মুস্তাহাবের দিকে লক্ষ করে নামায পড়াবেন। মুসল্লীদের কষ্ট হয় বলে সুন্নত-মুস্তাহাবও ছেড়ে দিয়ে নামায সংক্ষেপ করবে, সে কথা বলা হয়নি।
এমনিভাবে তাঁর খুতবা দীর্ঘ না হলেও এত সংক্ষেপও হত না যে, বক্তব্য বিষয় অস্পষ্ট থেকে যেত। খুতবার উদ্দেশ্য তো মানুষকে দীনী কথা বোঝানো। যে সংক্ষেপের কারণে তা বুঝতে কষ্ট হয় সে সংক্ষেপ দূষণীয়। খুতবায় তা পসন্দনীয় নয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুতবা দীর্ঘ না হলেও অতি সংক্ষিপ্তও হত না; বরং মাঝামাঝি পর্যায়ের হত, যা দ্বারা তাঁর বক্তব্য শ্রোতাগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারাও 'ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা রক্ষার গুরুত্ব বোঝা যায়।
খ. ইমামের কর্তব্য সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর নামায অতি দীর্ঘ না করা।
গ. জুমু'আর খুতবাও বেশি লম্বা না করা বাঞ্ছনীয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)