কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৬. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৬
জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়
নবী (ﷺ)-এর ওফাত ও তাঁর দাফন প্রসঙ্গে
১৬৩৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আওস ইবন আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিন সর্বোত্তম। এ দিনেই আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে। এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। কাজেই তোমরা এ দিনে আমার প্রতি অধিক দরুদ ও সালাম পাঠ করবে। কেননা, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। জনৈক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমাদের দরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা নবীগণের দেহ ভক্ষণ করা যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
أبواب الجنائز
بَاب ذِكْرِ وَفَاتِهِ وَدَفْنِهِ ﷺ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَعْنِي بَلِيتَ قَالَ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে বর্ণিত হযরত আওস ইবনে আওস সাকাফীর হাদীসে জুমু'আর দিনে সংঘটিত অসাধারণ ঘটনাসমূহের বিবরণ দিয়ে মূলতঃ জুমু'আর দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, এদিনে বেশি বেশি দুরূদ পড়া চাই। রমাযানুল মুবারকের বিশেষ আমল যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং তা যেমন রমাযানের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, হজ্জের সফরে তালবীয়া যেমন বিশেষ আমল তদ্রুপ হাদীসের আলোকে জুমু'আর দিনের বিশেষ আমল হল দুরূদ পাঠ। তাই এ দিনে বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করা উচিত।
ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: