কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৮. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৪০
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৪০
যাকাতের অধ্যায়
সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও চাওয়া
১৮৪০। হাসান ইবন 'আলী খাল্লাল (রাহঃ) ....আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও (অন্যের কাছে কিছু) চায়, তার চাওয়ার কারণে সেদিন যখমযুক্ত চেহারা নিয়ে হাজির হবে। জিজ্ঞাসা করা হলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) স্বচ্ছলতার পরিমাণ কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা সমমূল্যের সোনা।
জনৈক ব্যক্তি সুফয়ানকে বললেন, শু'বা তো হাকীম ইবন জুবায়র থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না? তখন সুফয়ান বললেনঃ আমার কাছে তো যুবায়দ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
জনৈক ব্যক্তি সুফয়ানকে বললেন, শু'বা তো হাকীম ইবন জুবায়র থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না? তখন সুফয়ান বললেনঃ আমার কাছে তো যুবায়দ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
أبواب الزكاة
بَاب مَنْ سَأَلَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلَّالُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ سَأَلَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَتْ مَسْأَلَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُدُوشًا أَوْ خُمُوشًا أَوْ كُدُوحًا فِي وَجْهِهِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا يُغْنِيهِ قَالَ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنْ الذَّهَبِفَقَالَ رَجُلٌ لِسُفْيَانَ إِنَّ شُعْبَةَ لَا يُحَدِّثُ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ’ فَقَالَ سُفْيَانُ قَدْ حَدَّثَنَاهُ زُبَيْدٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটির মর্ম এই যে, যার কাছে পঞ্চাশ দেরহাম অথবা এর কাছাকাছি সম্পদ বর্তমান থাকে- যা সে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে অথবা কোন ব্যবসায় লাগাতে পারে, তার জন্য সওয়াল করা গুনাহর কাজ। এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এ অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার মুখমন্ডলে এ অবৈধ সওয়ালের কারণে বিশ্রী দাগ ও ক্ষত থাকবে।
এ হাদীসে যতটুকু অর্থ-সম্পদ থাকলে সওয়াল করার বৈধতা থাকে না, এর পরিমাণ পঞ্চাশ দেরহাম বলা হয়েছে। অন্য এক হাদীসে এক উকিয়্যা অর্থাৎ, চল্লিশ দেরহামের সমমূল্যের সম্পদের কথাও উল্লেখিত হয়েছে। আর একথা স্পষ্ট যে, এ দু'টির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু আবূ দাউদ শরীফে সাহল ইবনুল হানযালিয়্যা বর্ণিত অপর এক হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ما الغنى الذي لا تنبغي معه المسئلة (ধনী হওয়ার ঐ মাপকাঠিটি কি, যা বর্তমান থাকলে সওয়াল করা উচিত নয়?) তিনি উত্তরে বলেছিলেন: قدر ما يغديه ويعشيه এতটুকু যে, এর দ্বারা দুপুরের খানা ও রাতের খানা চলতে পারে।) এর দ্বারা জানা গেল যে, যদি কারো কাছে এক দিনের খাবারের ব্যবস্থাও থাকে, তাহলে তার জন্য সওয়াল করা বৈধ নয়।
ঐ অর্থ-বিত্ত যার ফলে যাকাত ফরয হয়, এর মাপকাঠি তো নির্ধারিত রয়েছে এবং এ সম্পর্কে অনেক হাদীসও আগেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ঐ পরিমাণ বিত্ত, যা বর্তমান থাকলে সওয়াল করা উচিত নয়, এর মাপকাঠি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠির কয়েকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি অভাজনের নিকট এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এই যে, এটা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোন কোন অবস্থা ও কোন কোন ব্যক্তি এমন হতে পারে যে, অল্প বিস্তর সম্পদ থাকলেও তাদের জন্য সওয়াল করার অবকাশ থাকতে পারে; কিন্তু এ সম্পদ যদি ৪০/৫০ দেরহামের কাছাকাছি হয়, তাহলে একেবারেই এর কোন অবকাশ নেই।
আর কোন কোন অবস্থা ও কোন কোন ব্যক্তি এমনও হতে পারে যে, তাদের কাছে যদি একদিনের খোরাকীও থাকে, তবুও তাদের জন্য সওয়াল করার কোন অবকাশ নেই। এর আরেকটি ব্যাখ্যা এভাবেও দেওয়া যায় যে, যেসব হাদীসে ৪০ অথবা ৫০ দেরহামকে মাপকাঠি সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেখানে অবকাশ ও ফতওয়া হিসাবে তা বলা হয়েছে। আর যেখানে একদিনের খোরাকী থাকলেও সওয়াল করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটা উচুস্তরের তাকওয়া ও কঠোর অনুশাসনের দিকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে।
এ হাদীসে যতটুকু অর্থ-সম্পদ থাকলে সওয়াল করার বৈধতা থাকে না, এর পরিমাণ পঞ্চাশ দেরহাম বলা হয়েছে। অন্য এক হাদীসে এক উকিয়্যা অর্থাৎ, চল্লিশ দেরহামের সমমূল্যের সম্পদের কথাও উল্লেখিত হয়েছে। আর একথা স্পষ্ট যে, এ দু'টির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু আবূ দাউদ শরীফে সাহল ইবনুল হানযালিয়্যা বর্ণিত অপর এক হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ما الغنى الذي لا تنبغي معه المسئلة (ধনী হওয়ার ঐ মাপকাঠিটি কি, যা বর্তমান থাকলে সওয়াল করা উচিত নয়?) তিনি উত্তরে বলেছিলেন: قدر ما يغديه ويعشيه এতটুকু যে, এর দ্বারা দুপুরের খানা ও রাতের খানা চলতে পারে।) এর দ্বারা জানা গেল যে, যদি কারো কাছে এক দিনের খাবারের ব্যবস্থাও থাকে, তাহলে তার জন্য সওয়াল করা বৈধ নয়।
ঐ অর্থ-বিত্ত যার ফলে যাকাত ফরয হয়, এর মাপকাঠি তো নির্ধারিত রয়েছে এবং এ সম্পর্কে অনেক হাদীসও আগেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ঐ পরিমাণ বিত্ত, যা বর্তমান থাকলে সওয়াল করা উচিত নয়, এর মাপকাঠি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠির কয়েকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি অভাজনের নিকট এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এই যে, এটা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোন কোন অবস্থা ও কোন কোন ব্যক্তি এমন হতে পারে যে, অল্প বিস্তর সম্পদ থাকলেও তাদের জন্য সওয়াল করার অবকাশ থাকতে পারে; কিন্তু এ সম্পদ যদি ৪০/৫০ দেরহামের কাছাকাছি হয়, তাহলে একেবারেই এর কোন অবকাশ নেই।
আর কোন কোন অবস্থা ও কোন কোন ব্যক্তি এমনও হতে পারে যে, তাদের কাছে যদি একদিনের খোরাকীও থাকে, তবুও তাদের জন্য সওয়াল করার কোন অবকাশ নেই। এর আরেকটি ব্যাখ্যা এভাবেও দেওয়া যায় যে, যেসব হাদীসে ৪০ অথবা ৫০ দেরহামকে মাপকাঠি সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেখানে অবকাশ ও ফতওয়া হিসাবে তা বলা হয়েছে। আর যেখানে একদিনের খোরাকী থাকলেও সওয়াল করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটা উচুস্তরের তাকওয়া ও কঠোর অনুশাসনের দিকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)