কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯. বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৭০
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৭০
বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
কুমারী ও সাবালিকা মেয়ের মত গ্রহণ প্রসঙ্গে
১৮৭০। ইসমাঈল ইবন মুসা সুদ্দী (রাহঃ) ….. ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বয়স্কা মহিলা নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবক অপেক্ষা বেশী অধিকার রাখে। আর কুমারী মেয়ের বিয়েতে তার মত নেয়া হবে। বলা হলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! কুমারী তো (বিয়ের ব্যাপারে) কথা বলতে লজ্জাবোধ করে। তিনি বললেনঃ তার নীরবতাই তার অনুমতি বলে বিবেচিত।
أبواب النكاح
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
حَدَّثَنِي إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى السُّدِّيُّ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْفَضْلِ الْهَاشِمِيِّ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْأَيِّمُ أَوْلَى بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ الْبِكْرَ تَسْتَحْيِي أَنْ تَتَكَلَّمَ قَالَ إِذْنُهَا سُكُوتُهَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

أيم এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, যে নারীর স্বামী নেই, অবিবাহিতা অথবা বিধবা যাই হোক না কেন। তবে আলোচ্য হাদীসে এমন নারীকে বুঝানো হয়েছে-যে বিয়ের পর স্বামী বাসের পর স্বামীহীনা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণেই হোক অথবা তালাকজনিত কারণেই হোক। [হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীসে এটাকেই ثيب বলা হয়েছে]। এরূপ নারী সম্বন্ধে হাদীসে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যে, তার সিদ্ধান্ত ও সম্মতি না জেনে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবেনা। অর্থাৎ এটা আবশ্যক যে, সে মুখে কিংবা প্রকাশ্য ইঙ্গিতে স্বীয় সম্মতি ব্যক্ত করবে। আলোচ্য হাদীসের ভাবার্থ এটাই।

অন্য দিকে بكر দ্বারা এমন কুমারী বালিকা বুঝানো হয়েছে-যে বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা বটে, তবে স্বামীবাসী নয়। তার ব্যাপারে নির্দেশ করা হয়েছে যে, তার বিয়েও তার অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন করা যাবেনা। তবে এরূপ মেয়েদের লজ্জা-শরমের কারণে যেহেতু মুখে বা ইঙ্গিতে অনুমতি প্রদান কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, এজন্য অনুমতি তলবের পর তাদের চুপ থাকাকেই অনুমতি স্থির করা হয়েছে। এ উভয় হাদীস থেকে জানা গেল যে, কোন বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা নারীর বিয়ে, চাই সে স্বামী দর্শনকারী হোক অথবা কুমারী, তার সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া তার স্বামী বিয়ে সম্পন্ন করতে পারে না। তবে যদি কোন মেয়ে কম বয়স্কা হয়, যে এখনো বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার উপযুক্ত নয়; অথচ কোন উত্তম সম্পর্ক এসে পড়ে এবং স্বয়ং মেয়ের উপযোগিতা এরূপ যে, তার বিয়ে সম্পন্ন করা হোক তখন ওলী (যে কল্যাণকামিতার দায়িত্ব পালনকারী) নিজের হিতকামী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে দিতে পারে।

হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা) স্বীয় কন্যা হযরত আয়েশা (রা)-এর বিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে কেবল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন করেছিলেন, যখন তাঁর বয়স ছিল ৬-৭ বছর।১

টিকা ১. সে বিবাহে উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণ ও অনেক বরকত ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক সর্বপ্রথম ঈমান আনেন এবং এমন ত্যাগ স্বীকার ও সাথীর এরূপ দাবি পূর্ণ করেন যে, ওফাতের কিছু পূর্বে নবী করীম ﷺ বলে ছিলেন, আমার প্রতি যে যত ইহসান করেছে অথবা যে সব খিদমত করেছে আমি সব কিছুর বদলা দিয়েছি। তবে আবু বকর এর খিদমতের বদলা দিতে পারিনি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আয়েশা অল্প বয়স্কা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এজন্য বিবাহ করেছিলেন যে, আবুবকরের সাথে আত্মীয়তার এক বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হবে। আর তাঁর পরিবারের লোকজনও সন্তুষ্ট হবে। উক্ত বিবাহে অন্যান্য আরো যে-সব কল্যাণ নিহিত ছিল, সে বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)