আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৯৩৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৮৪২. ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে (ইসলামের প্রতি) আহবান করা এবং কি অবস্থায় তাদের সাথে যুদ্ধ করা যায়? নবী (ﷺ) কায়সার ও কিসরা- এর কাছে যা লিখেছিলেন এবং যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া
২৭৩৭। আলী ইবনে জা‘দ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) রোমের (সম্রাটের) প্রতি লেখার ইচ্ছা করেন। তখন তাকে বলা হল যে, তারা মোহরকৃত পত্র ছাড়া পাঠ করে না। তারপর তিনি রূপার একটি মোহর নির্মাণ করেন। আমি এখনো যেন তাঁর হাতে এর শুভ্রতা দেখছি। তিনি তাতে খোদাই করেছিলেন, “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
كتاب الجهاد والسير
باب دَعْوَةِ الْيَهُودِيِّ وَالنَّصْرَانِيِّ، وَعَلَى مَا يُقَاتَلُونَ عَلَيْهِ وَمَا كَتَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى كِسْرَى وَقَيْصَرَ، وَالدَّعْوَةِ قَبْلَ الْقِتَالِ
2938 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الرُّومِ، قِيلَ لَهُ: إِنَّهُمْ لاَ يَقْرَءُونَ كِتَابًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَخْتُومًا، «فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِهِ فِي يَدِهِ، وَنَقَشَ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ষষ্ঠ হিজরীর শেষ দিকে হুদায়বিয়ার সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তখনকার দুনিয়ার প্রসিদ্ধ বাদশাহ ও শাসকদের নামে ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত পত্র প্রেরণ করেছিলেন। সে সময়ই এ ঘটনা ঘটল যে, যখন তিনি পত্র লিখাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, তখন কোন কোন সাহাবী- যারা এসব রাষ্ট্রের রীতি নীতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, বললেন যে, এসব পত্রে হুযুর (ﷺ)-এর মোহর থাকা জরুরী। এসব রাজা-বাদশাহ মোহর ছাড়া পত্রের কোন গুরুত্বই দেয় না। হুযুর (ﷺ) তাদের এ পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং রূপার একটি আংটি তৈরী করলেন- যার উপরের পাত্রে محمد رسول الله অংকিত ছিল।
বুখারী শরীফের রেওয়ায়াত দ্বারা এ কথাও জানা গেল যে, এ তিনটি শব্দ তিন লাইনে নীচ থেকে উপরে এভাবে লিখা ছিল:
الله
رسول
محمد
এটাই হুযুর (ﷺ)-এর মোহর এবং এটাই তাঁর আংটি ছিল।
বর্ণনায় বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে ব্যবহার করার কথাও এসেছে এবং ডান হাতে ব্যবহারের কথাও। মনে হয়, কখনো ডান হাতেও ব্যবহার করতেন, আর কখনো বাম হাতেও পরে নিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)