কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২. লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়

হাদীস নং: ২২৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ২২৪৩
লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়
দায়-দায়িত্ব থাকার কারণে সম্পদের মালিক হওয়া
২২৪৩। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) ……. আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করেছিল, তদ্বারা সে কিছু উপার্জনও করেছিল। এরপর গোলামের মধ্যে সে কিছু দোষ পেয়ে তা ফেরৎ দেয়। তখন বিক্রেতা এসে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমার গোলাম তো কিছু উপার্জন করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ উপার্জিত সম্পদের মালিক হবে দায়-দায়িত্ব গ্রহণকারী অর্থাৎ বিক্রেতা।
أبواب التجارات
بَاب الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، اشْتَرَى عَبْدًا فَاسْتَغَلَّهُ ثُمَّ وَجَدَ بِهِ عَيْبًا فَرَدَّهُ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدِ اسْتَغَلَّ غُلاَمِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের শেষে তাঁর বাণী «الخراج بالضمان» শরী'আতের সেই মৌল নীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা ফকীহবৃন্দ শত শত মাসআলার নির্দেশ বের করেছেন। উদ্দেশ্য এই যে, লাভের উপযুক্ত সে-ই, যে ক্ষতির জিম্মাদার। যদি দাস ক্রয়কারীর নিকট দাসটি মরে যেত অথবা কোন দৈবাতে তার কোন অঙ্গহানি হয়ে যেত তবে এই ক্ষতি ক্রয়কারীরই হত। এ জন্য সেই দিনগুলোতে যে ফায়দা ক্রেতা দাস থেকে লাভ করেছেন, তা তারই অধিকার ছিল। সুতরাং তার বিনিময়ের প্রশ্নই উঠে না।

এ স্থলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর এক ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা ইমাম মালিক তার মুআত্তায় উদ্ধৃত করেছেন। ঘটনাটি হচ্ছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) আটশত দিরহামে তাঁর এক দাস কারো নিকট বিক্রি করেছিলেন। বিক্রয়কালে তিনি একথা প্রকাশ করেছিলেন যে, এ দাসে কোন ত্রুটি নেই। পরে দাস ক্রয়কারী বললেন, তার মধ্যে অমুক রোগ রয়েছে যা তিনি বলেননি। [সম্ভবত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছিলেন তার এ রোগ আমার এখানে ছিল না]। বস্তুত বিষয়টি তখনকার খলীফা হযরত উসমান (রা)-এর আদালতে পেশ হয়েছিল। তিনি বৃত্তান্ত শুনে (এবং এটা দেখে যে, ক্রেতা এ কথার সাক্ষী পেশ করতে সক্ষম নয় যে, দাসের এ রোগটি প্রথমে ছিল) শরী'আতের আইন মুতাবিক হযরত ইবনে উমর (রা) কে বললেন, আপনি শপথ করে এ কথা বলুন যে, দাসের এ রোগ আপনার ওখানে ছিল না। হযরত ইবনে উমর (রা) শপথ নিয়ে এ বর্ণনা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে নিজের দাস ফেরত গ্রহণ করলেন। এরপর আল্লাহ এরূপ করলেন যে, রোগের লক্ষণ দূর হয়ে দাসটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সেই দাসই হযরত ইব্‌ন ওমর (রা) পনের শত দিরহামে বিক্রি করেন।

এ মাসআলায় ফকীহবৃন্দের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি বের হয় (যে কারণে এর মূল্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে পড়ে) তবে এ কথা প্রমাণিত হওয়ার পর যে, এ ত্রুটি ক্রয়-বিক্রয়ের পূর্বে ছিল, ক্রেতার বিষয়টি বাতিল ও ক্রয়কৃত দ্রব্য ফেরত দিয়ে নিজের প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেয়ার অধিকার আছে। এটাকেই 'খিয়ারে আয়ব' বলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)