কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
২৩. হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯০০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯০০
হজ্ব - উমরার অধ্যায়
অভিভাবক ব্যতীত মহিলাদের হজ্জ করা
২৯০০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক অমুক যুদ্ধে যোগদানের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আমার স্ত্রী হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করেছে। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে তার সাথে হজ্জে যাও।[১]
[১] উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, মুহরিম সফরসঙ্গী ছাড়া কোন মহিলার পক্ষে একাকি সফর করা সাধারণত জায়েয নয়। জমহুরের মতে স্বামী বা কোন মুহরিম পুরুষ (যাদের সাথে চিরকালের জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ) সাথে না থাকলে কোন মহিলা জন্য হজ্জের সফরে বের হওয়া জায়েয নয়। ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ)-এর মতে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য তার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়। সে একাই হজ্জের সফরে বের হতে পারে। একদল মুহাদ্দিস তাঁর এই মত সমর্থন করেছেন। হাসান বসরী এবং ইবরাহীম নাখঈরও এই মত।
ইমাম মালিক, শাফিঈ (প্রসিদ্ধ মত), আওযাঈ, আতা, সাঈদ ইবন জুবায়র ও ইবন সীরীনের মতে হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য কোন মহিলার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়, বরং নিজের জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। ইমাম শাফিঈর মতে তিনটি জিনিসের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ হয়ঃ ১. স্বামী ২. অন্য কোন মুহরিম পরুষ ৩. একদল বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মহিলা। এই তিনটির কোন একটির অভাবে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হয় না।
[১] উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, মুহরিম সফরসঙ্গী ছাড়া কোন মহিলার পক্ষে একাকি সফর করা সাধারণত জায়েয নয়। জমহুরের মতে স্বামী বা কোন মুহরিম পুরুষ (যাদের সাথে চিরকালের জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ) সাথে না থাকলে কোন মহিলা জন্য হজ্জের সফরে বের হওয়া জায়েয নয়। ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ)-এর মতে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য তার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়। সে একাই হজ্জের সফরে বের হতে পারে। একদল মুহাদ্দিস তাঁর এই মত সমর্থন করেছেন। হাসান বসরী এবং ইবরাহীম নাখঈরও এই মত।
ইমাম মালিক, শাফিঈ (প্রসিদ্ধ মত), আওযাঈ, আতা, সাঈদ ইবন জুবায়র ও ইবন সীরীনের মতে হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য কোন মহিলার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়, বরং নিজের জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। ইমাম শাফিঈর মতে তিনটি জিনিসের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ হয়ঃ ১. স্বামী ২. অন্য কোন মুহরিম পরুষ ৩. একদল বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মহিলা। এই তিনটির কোন একটির অভাবে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হয় না।
كتاب المناسك
بَاب الْمَرْأَةِ تَحُجُّ بِغَيْرِ وَلِيٍّ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِنِّي اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَامْرَأَتِي حَاجَّةٌ . قَالَ " فَارْجِعْ مَعَهَا " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোনও নারীর যদি কোনও সফরের প্রয়োজন পড়ে, তবে তার কোনও না কোনও মাহরাম পুরুষ অবশ্যই সঙ্গে যাবে। এর জন্য সে প্রয়োজনে তার অন্যান্য ব্যস্ততা স্থগিত রাখবে বা পিছিয়ে দেবে। এমনকি সে ব্যস্ততা কোনও দীনী কাজের হলেও। জিহাদের মতো ফযীলতের কাজ আর কী আছে, বিশেষত তা যদি হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে? অথচ এক সাহাবী এরূপ মহান কাজে নাম লেখানো সত্ত্বেও যখন তার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলো, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সাহাবীকে হুকুম করলেন-
انطَلِقْ فحُجَّ مع امرَأتِكَ (যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করো)। অর্থাৎ হজ্জের মতো মহান এক ইবাদত আদায়ের জন্যও নারীকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরূপ সফরের জন্যও তার সঙ্গে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তির থাকা জরুরি। তা যদি জরুরি না হতো, তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই আনসারী সাহাবীকে বলতেন, তুমি যখন জিহাদে নাম লিখিয়েছ, তখন জিহাদেও যাও আর তোমার স্ত্রী অন্যান্য হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে হজ্জে যাবে। বোঝা গেল নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার হেফাজতকল্পে স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি পাওয়া না গেলে সে হজ্জের সফর বিলম্বিত করবে, তবুও একা যাবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পুরুষের উচিত নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা।
খ. নারীর কোনও সফরের প্রয়োজন দেখা দিলে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি অবশ্যই তার সঙ্গী হবে, নিজের কাজ বিলম্বিত করে হলেও।
انطَلِقْ فحُجَّ مع امرَأتِكَ (যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করো)। অর্থাৎ হজ্জের মতো মহান এক ইবাদত আদায়ের জন্যও নারীকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরূপ সফরের জন্যও তার সঙ্গে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তির থাকা জরুরি। তা যদি জরুরি না হতো, তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই আনসারী সাহাবীকে বলতেন, তুমি যখন জিহাদে নাম লিখিয়েছ, তখন জিহাদেও যাও আর তোমার স্ত্রী অন্যান্য হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে হজ্জে যাবে। বোঝা গেল নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার হেফাজতকল্পে স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি পাওয়া না গেলে সে হজ্জের সফর বিলম্বিত করবে, তবুও একা যাবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পুরুষের উচিত নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা।
খ. নারীর কোনও সফরের প্রয়োজন দেখা দিলে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি অবশ্যই তার সঙ্গী হবে, নিজের কাজ বিলম্বিত করে হলেও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)