আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৬১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৯২২. ইমাম কর্তৃক লোকদের নাম তালিকাভুক্ত করা
২৮৪৫। আবু নুআইম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)- এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে আর আমার স্ত্রী হজ্জ আদায়ের সংকল্প করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করে নাও।’
كتاب الجهاد والسير
باب كِتَابَةِ الإِمَامِ النَّاسَ
3061 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي كُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي حَاجَّةٌ، قَالَ: «ارْجِعْ، فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোনও নারীর যদি কোনও সফরের প্রয়োজন পড়ে, তবে তার কোনও না কোনও মাহরাম পুরুষ অবশ্যই সঙ্গে যাবে। এর জন্য সে প্রয়োজনে তার অন্যান্য ব্যস্ততা স্থগিত রাখবে বা পিছিয়ে দেবে। এমনকি সে ব্যস্ততা কোনও দীনী কাজের হলেও। জিহাদের মতো ফযীলতের কাজ আর কী আছে, বিশেষত তা যদি হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে? অথচ এক সাহাবী এরূপ মহান কাজে নাম লেখানো সত্ত্বেও যখন তার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলো, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সাহাবীকে হুকুম করলেন-
انطَلِقْ فحُجَّ مع امرَأتِكَ (যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করো)। অর্থাৎ হজ্জের মতো মহান এক ইবাদত আদায়ের জন্যও নারীকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরূপ সফরের জন্যও তার সঙ্গে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তির থাকা জরুরি। তা যদি জরুরি না হতো, তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই আনসারী সাহাবীকে বলতেন, তুমি যখন জিহাদে নাম লিখিয়েছ, তখন জিহাদেও যাও আর তোমার স্ত্রী অন্যান্য হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে হজ্জে যাবে। বোঝা গেল নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার হেফাজতকল্পে স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি পাওয়া না গেলে সে হজ্জের সফর বিলম্বিত করবে, তবুও একা যাবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পুরুষের উচিত নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা।
খ. নারীর কোনও সফরের প্রয়োজন দেখা দিলে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি অবশ্যই তার সঙ্গী হবে, নিজের কাজ বিলম্বিত করে হলেও।
انطَلِقْ فحُجَّ مع امرَأتِكَ (যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করো)। অর্থাৎ হজ্জের মতো মহান এক ইবাদত আদায়ের জন্যও নারীকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরূপ সফরের জন্যও তার সঙ্গে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তির থাকা জরুরি। তা যদি জরুরি না হতো, তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই আনসারী সাহাবীকে বলতেন, তুমি যখন জিহাদে নাম লিখিয়েছ, তখন জিহাদেও যাও আর তোমার স্ত্রী অন্যান্য হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে হজ্জে যাবে। বোঝা গেল নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার হেফাজতকল্পে স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি পাওয়া না গেলে সে হজ্জের সফর বিলম্বিত করবে, তবুও একা যাবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পুরুষের উচিত নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা।
খ. নারীর কোনও সফরের প্রয়োজন দেখা দিলে তার স্বামী বা কোনও মাহরাম ব্যক্তি অবশ্যই তার সঙ্গী হবে, নিজের কাজ বিলম্বিত করে হলেও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)