কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৭. পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩১১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩১১
পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
ভুনা গোশত সম্পর্কে
৩৩১১। হারমালা ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন হারিশ ইব্‌ন জায্ই যুবাইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মুসজিদে ভুনা গোশত খেয়েছি। অতঃপর কাঁকরে হাত মুছে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু (গোসত খাওয়ার কারণে পুনরায়) ওযূ করিনি।
كتاب الأطعمة
بَاب الشِّوَاءِ
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ زِيَادٍ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْجَزْءِ الزُّبَيْدِيِّ، قَالَ أَكَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ طَعَامًا فِي الْمَسْجِدِ لَحْمًا قَدْ شُوِيَ فَمَسَحْنَا أَيْدِيَنَا بِالْحَصْبَاءِ ثُمَّ قُمْنَا فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের রাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস রাযি.-এর ঘটনা বর্ণনা দ্বারা উদ্দেশ্য বাহ্যত এটাই যে, কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণ খানা খেয়েছেন, কিন্তু খাওয়ার পর হাত ধোয়া হয়নি। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, এ কথাটি যুক্তিযুক্ত যে, তিনি এ কথা প্রকাশ করার জন্য এমনটি করেছেন যে, খাওয়ার পর হাত-মুখ ধোয়া কোন ফরয-ওয়াজিব কাজ নয় এবং এটা না করেও নামায পড়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে অবকাশ ও ছাড়দানের সীমারেখা শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনেক সময় উত্তম ও আফজাল কাজকে ছেড়ে দিতেন। আর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শনকারী হিসাবে তাঁর জন্য এরূপ করার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, ঘটনাটি সম্ভবত এরূপ দাঁড়িয়েছিল যে, নামাযের জন্য দাঁড়ানোর সময় হয়ে গিয়েছিল, সাহাবায়ে কেরামও নামাযের জন্য মসজিদে এসে গিয়েছিলেন। এমন সময় কেউ তাঁর খেদমতে কিছু গোশত ও রুটি নিয়ে আসল। এটা সম্ভব; বরং প্রবল ধারণা যে, উপস্থিত লোকদের মধ্যে এমন লোকও ছিল, যারা ক্ষুধায় আক্রান্ত এবং খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহও ছিল প্রবল। এমতাবস্থায় তিনি এটাই সংগত মনে করলেন যে, খাবার নামাযের আগেই খেয়ে নেওয়া হোক। এখানে তিনি অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামকেও শরীক করলেন। আর একথা স্পষ্ট যে, এ অবস্থায় সবাই তো পেটভরে আহার করেননি, কেবল তাবাররুক হিসাবে সামান্য অংশ গ্রহণ করেছেন। এজন্য হাতে খাবার খুব বেশী লাগেওনি। তারপর এটাও লক্ষণীয় যে, মসজিদে পানির কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাই এ সময় যদি হাত ধোয়াকে জরুরী মনে করা হত, তাহলে প্রত্যেকের নিজের বাড়ি গিয়ে হাত ধুয়ে আসতে হত। সংকলকের ধারণা যে, হাত না ধোয়ার মধ্যে এ সমস্ত বিষয়ের কিছু না কিছু দখল রয়েছে।

হাদীসে পাথর ও কংকরে হাত পরিষ্কার করার কথা যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও ঐ সময় এরূপই করেছিলেন। এর দ্বারা এ পথনির্দেশ পাওয়া যায় যে, খানা খাওয়ার পর তোয়ালে, টিস্যু পেপার অথবা এমন কোন জিনিস দ্বারা হাত পরিষ্কার করে নেওয়া যায়, যার দ্বারা হাত পরিষ্কার করার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। আর এরূপ করাও সুন্নতের সীমার ভিতরেই থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: