আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৯৩৮. জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যা বলবে
২৮৬৭। আবু মামার (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসফান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাযিঃ)- কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবু তালহা (রাযিঃ) দ্রুত ছুটে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আগে মহিলার খোজ নাও। আবু তালহা (রাযিঃ) তখন একখানা কাপড় দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং উক্ত কাপড়খানি দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। এরপর তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়ে আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আ পড়লেন,آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদাতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يَقُولُ إِذَا رَجَعَ مِنَ الْغَزْوِ
3085 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْفَلَهُ مِنْ عُسْفَانَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلّى الله [ص:77] عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ، وَقَدْ أَرْدَفَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ، فَعَثَرَتْ نَاقَتُهُ، فَصُرِعَا جَمِيعًا، فَاقْتَحَمَ أَبُو طَلْحَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ، قَالَ: «عَلَيْكَ المَرْأَةَ» ، فَقَلَبَ ثَوْبًا عَلَى وَجْهِهِ، وَأَتَاهَا، فَأَلْقَاهُ عَلَيْهَا، وَأَصْلَحَ لَهُمَا مَرْكَبَهُمَا، فَرَكِبَا وَاكْتَنَفْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَشْرَفْنَا عَلَى المَدِينَةِ قَالَ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ» فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ حَتَّى دَخَلَ المَدِينَةَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটি দ্বারা আমরা জানতে পারছি যে, সফর থেকে ফিরে আসার সময় যখন নিজ এলাকা চোখে পড়ে, তখন আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজ হয়ে সফরকালীন ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য তাওবা করা এবং ফিরে আসা পর্যন্ত সমগ্র সফরে যেসব নি'আমত লাভ হয়েছে তার জন্য শোকর আদায় করা উচিত। এসবের জন্য হাদীছটিতে একটি সংক্ষিপ্ত দুআ বর্ণিত হয়েছে। এ দুআটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পড়তেন। যখন মদীনা শহর চোখে পড়ত, তখন থেকে তিনি এটি পড়া শুরু করতেন এবং অনবরত পড়তে থাকতেন, যতক্ষণ না শহরে পৌঁছান। দু'আটিতে চারটি শব্দ আছে। آيبُونَ (আমরা প্রত্যাবর্তনকারী)। تَابوْنَ (তাওবাকারী)। عَابِدُونَ (ইবাদতকারী)। لِرَبِّنا حَامِدُونَ (আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী)। এ কথাগুলোর ভেতর দিয়ে আল্লাহ তা'আলার প্রতি বান্দার বন্দেগীসুলভ বিনয়, আত্মনিবেদন ও শোকরগুযারীর অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে। বোঝানো হচ্ছে, আমরা আল্লাহ তা'আলার দয়া-অনুগ্রহেই সফর থেকে আপন ঠিকানায় ফিরে আসতে পেরেছি। এ সফরকালে না জানি আমাদের দ্বারা কত অন্যায়-অনুচিত কাজ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে তাওবা করছি, যেন তিনি নিজ দয়ায় সেসব ক্ষমা করে দেন। আর আমাদের কাজই হলো আল্লাহ তা'আলার ইবাদত-বন্দেগী করা, তা ঘরে থাকি বা বাইরে। তাঁর ইবাদত করার জন্যই তো আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই আমাদেরকে এর প্রতি বিশেষ মনোযোগী থাকতে হবে। আমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নি'আমত ও অনুগ্রহ ভোগ করে থাকি। এই মুহূর্তে তাঁর এক বিশেষ নি'আমত হলো নিরাপদে সফর সম্পন্ন করার পর সহি-সালামতে বাড়িতে ফিরে আসা। সেজন্য আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁরই শোকর আদায় করছি। আমরা কেনই বা তাঁর শোকর আদায় করব না? নিজ শহর ও নিজ বাড়ি প্রত্যেকের স্বস্তি ও শান্তির ঠিকানা। এ ঠিকানার সঙ্গে প্রত্যেকের প্রাণের সম্পর্ক। স্বভাবগতভাবেই প্রত্যেকে এ ঠিকানাকে ভালোবাসে। তাই তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, তিনি তাঁর প্রিয় ঠিকানা মদীনা মুনাউওয়ারাকে খুবই ভালোবাসতেন। সফর থেকে ফেরার কালে তাঁর সে ভালোবাসা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠত। হযরত আনাস রাযি. বর্ণনা করেন-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ، فَنَظَرَ إِلَى جُدُرَاتِ الْمَدِينَةِ، أَوْضَعَ رَاحِلَتَهُ وَإِنْ كَانَ عَلَى دَابَّةٍ حَرَّكَهَا مِنْ حُبِّهَا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে প্রত্যাগমনকালে যখন মদীনার ঘর-বাড়ি দেখতে পেতেন, তখন তাঁর উটনী দ্রুত হাঁকাতেন। আর যদি গাধা বা ঘোড়ার পিঠে থাকতেন, সেটিকে তাড়া দিতেন- মদীনার ভালোবাসায়। (সহীহ বুখারী: ১৮০২, ১৮৮৬; জামে তিরমিযী: ৩৪৪১; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৪২২৩৪; সহীহ ইবন হিব্বান : ২৭১০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ১০৩৭৬; বাগাৰী, শারহুস সুন্নাহ: ২০১২)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফর থেকে ফেরার সময় নিজ এলাকা যখন চোখে পড়বে, তখন আমরা দুআ পড়তে থাকব-
آيبُونَ ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ.
খ. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। সফর অবস্থায়ও এবং সফর থেকে ফেরার পরও।
গ. সফরে হয়ে যাওয়া ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করা জরুরি।
ঘ. সহি-সালামতে সফর সম্পন্ন করা ও সহি-সালামতে ফিরে আসাটা আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় অনুগ্রহ। এর জন্য তাঁর শোকর আদায় করা জরুরি।
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ، فَنَظَرَ إِلَى جُدُرَاتِ الْمَدِينَةِ، أَوْضَعَ رَاحِلَتَهُ وَإِنْ كَانَ عَلَى دَابَّةٍ حَرَّكَهَا مِنْ حُبِّهَا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে প্রত্যাগমনকালে যখন মদীনার ঘর-বাড়ি দেখতে পেতেন, তখন তাঁর উটনী দ্রুত হাঁকাতেন। আর যদি গাধা বা ঘোড়ার পিঠে থাকতেন, সেটিকে তাড়া দিতেন- মদীনার ভালোবাসায়। (সহীহ বুখারী: ১৮০২, ১৮৮৬; জামে তিরমিযী: ৩৪৪১; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৪২২৩৪; সহীহ ইবন হিব্বান : ২৭১০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ১০৩৭৬; বাগাৰী, শারহুস সুন্নাহ: ২০১২)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফর থেকে ফেরার সময় নিজ এলাকা যখন চোখে পড়বে, তখন আমরা দুআ পড়তে থাকব-
آيبُونَ ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ.
খ. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। সফর অবস্থায়ও এবং সফর থেকে ফেরার পরও।
গ. সফরে হয়ে যাওয়া ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করা জরুরি।
ঘ. সহি-সালামতে সফর সম্পন্ন করা ও সহি-সালামতে ফিরে আসাটা আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় অনুগ্রহ। এর জন্য তাঁর শোকর আদায় করা জরুরি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)