কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩১. আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৮১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮১৮
আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়
ইসতিগফার প্রসংগে
৩৮১৮। আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ ইবন কাসীর ইবন দীনার হিসী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন বুর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: সৌভাগ্য তার জন্য, যে তার নিজের আমলনামায় অধিক ইস্তিগফার পাবে।
كتاب الأدب
بَاب الِاسْتِغْفَارِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِرْقٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উল্লেখ্য যে, আমলনামায় প্রকৃত ইস্তিগফাররূপে কেবল সে ইস্তিগফারই লিখিত পাওয়া যেতে পারে, যা সত্যি সত্যি এবং আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ইস্তিগফার হবে। আর কেবল মৌখিক ইস্তিগফার যদি লিখিত থাকেই, তা হলে তা মৌখিক ইস্তিগফার হিসাবেই লিখিত হবে। আর যদি তা রেজিষ্ট্রীভুক্ত করার মত না-ই হয়, তা হলে তা লিখিতই হবেনা। এ জন্যে এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন নাই:
طُوبٰى لِمَنْ اسْتَغْفَرَ كَثِيْرًا
(মুবারকবাদ সে ব্যক্তির জন্যে, যে ব্যক্তি বহুল পরিমাণে ইস্তিগফার করে) বরং তিনি বলেছেন:
طُوبٰى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا
(আনন্দ ও মুবারকবাদ সে ব্যক্তির জন্যে, যে তার আমলনামায় অনেক বেশি ইস্তিগফার পাবে।) উম্মতের মশহুর মা'রিফত বিশেষজ্ঞ নারী রাবেয়া বসরী (কুদ্দিসা সিররুহা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি প্রায়ই বলতেন: "আমাদের ইস্তিগফার এমনই (নিম্ন মানের) যে, আল্লাহর দরবারে তা অনেক বেশি পরিমাণেই করতে হবে।" (নতুবা তা গ্রহণযোগ্যই বিবেচিত হবে না।)

এ হাদীসে উক্ত طُوبٰى শব্দটি অনেক ব্যাপক অর্থবোধক। দুনিয়া ও আখিরাতের এবং জান্নাতের সকল আনন্দ ও নিয়ামতই এর অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ যে বান্দার সত্যিকারের ইস্তিগফার নসীব হয়েছে এবং বহুল পরিমাণে ইস্তিগফার নসীব হয়েছে, তিনি বড়ই ভাগ্যবান। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকেও তা নসীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)