কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৩২. দুআর অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৮৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৬৯
দুআর অধ্যায়
ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় কি দু'আ করবে ?
৩৮৬৯। মুহাম্মাদ ইব্ন বাশশার (রাহঃ)...... উসমান ইবন আফ্ফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে কোন বান্দা প্রতিদিন সকালে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় এ দু'আ তিনবার বলেঃ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلاَثَ কোন কিছুই তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
রাবী বলেনঃ আবান অর্ধাঙ্গ রোগে আক্রান্ত হলে একজন লোক তার দিকে (অবাক চোখে তাকাতে লাগলো, তখন আবান তাকে বললেনঃ কি দেখছো আমাকে? শোনা হাদীস তেমনই আছে যেমন তোমাদের শুনিয়েছি। কিন্তু ব্যাপার এই যে, যে দিন আমি উক্ত দু'আ পড়িনি। আর তা ঘটেছে যেন আল্লাহ আমার উপর তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
রাবী বলেনঃ আবান অর্ধাঙ্গ রোগে আক্রান্ত হলে একজন লোক তার দিকে (অবাক চোখে তাকাতে লাগলো, তখন আবান তাকে বললেনঃ কি দেখছো আমাকে? শোনা হাদীস তেমনই আছে যেমন তোমাদের শুনিয়েছি। কিন্তু ব্যাপার এই যে, যে দিন আমি উক্ত দু'আ পড়িনি। আর তা ঘটেছে যেন আল্লাহ আমার উপর তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
كتاب الدعاء
بَاب مَا يَدْعُو بِهِ الرَّجُلُ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَمْسَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كَلِّ لَيْلَةٍ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ - فَيَضُرَّهُ شَىْءٌ " . قَالَ وَكَانَ أَبَانُ قَدْ أَصَابَهُ طَرَفٌ مِنَ الْفَالِجِ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبَانُ مَا تَنْظُرُ إِلَىَّ أَمَا إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا قَدْ حَدَّثْتُكَ وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ يَوْمَئِذٍ لِيُمْضِيَ اللَّهُ عَلَىَّ قَدَرَهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন তারই পুত্র আবান। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রভাব তাঁর দেহে দৃশ্যমান ছিল। একবার যখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তার জনৈক শাগরিদ তাঁর দিকে বিশেষ অর্থবহ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন শাগরিদটি মনে মনে বলছে, আপনি যখন স্বয়ং আপনার পিতা উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটি শুনেই ছিলেন, তা হলে আপনার নিজের এ দুর্গতির কারণ কি? আপনার নিজের আবার পক্ষাঘাত হলো কি করে? এ হাদীছে তো সকাল-সন্ধ্যায় তা পাঠে সর্বপ্রকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে। তখন তিনি বললেন: মিঞা, আমার দিকে কী দেখছো? না আমি ভুল রিওয়ায়াত করছি আর না হযরত উছমান (রা) আমার কাছে ভুল রিওয়ায়াত করেছেন। একদা কী একটা কারণে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, ফলে সে দিন ঐ দু'আটি পড়তে আমি ভুলে যাই আর ঐ দিনটিতেই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই। যেহেতু ভাগ্যের লিখন ছিল ঐ দিন আমার পক্ষাঘাত হবে, তাই সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাকে তা ভুলিয়ে রাখা হয়। হযরত আবানের এ মন্তব্যটুকু হাদীসের সাথে সাথে সুনানে আবু দাউদ ও জামে' তিরমিযী সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তিন তিন বার এ দু'আটি পাঠ করা হচ্ছে আল্লাহর নেক বান্দাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। নিঃসন্দেহে এতে আসমানী ও যমীনী বালা-মুসীবত থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: