কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৪. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা

হাদীস নং: ৩৯৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯৫৭
ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা
ফিতনার যুগে ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা
৩৯৫৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের অবস্থা তখন কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে, যখন লোকেরা আটার ভূষি নিঃসরণের মত হবে এবং প্রেতাত্মার মত লোকগুলো থেকে যাবে। তাদের অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও আমানত দূরীভূত হয়ে যাবে। অতঃপর তারা মতপার্থক্যে নিঃপতিত হবে। তিনি এই বলে অঙ্গুলী মুষ্টিবদ্ধ করলেন (অর্থাৎ মু'মিন ও কাফিরের মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে)। সাহাবা কিরাম (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যখন অবস্থা এরূপ হবে, তখন আমরা কি করবো? তিনি বললেনঃ যে সব জিনিষকে তোমরা ভাল মনে করবে তা ইখতিয়ার করবে এবং যা কিছু মন্দ জ্ঞান করবে তা পরিহার করবে। নিজেদের ব্যাপারে চিন্তা ফিকির করবে, সাধারণের ভাবধারা বর্জন করবে।
كتاب الفتن
بَاب التَّثَبُّتِ فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً وَتَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ فَاخْتَلَفُوا وَكَانُوا هَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالُوا كَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ تَأْخُذُونَ بِمَا تَعْرِفُونَ وَتَدَعُونَ مَا تُنْكِرُونَ وَتُقْبِلُونَ عَلَى خَاصَّتِكُمْ وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَوَامِّكُمْ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

حثالة অর্থ-ভূষি। এখানে এ শব্দের অর্থ এমন লোক, যে বাহ্যিক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মনুষত্বের নৈপুণ্য থেকে সম্পূর্ণ শূন্য। তার মধ্যে কোন যোগ্যতা নেই। যে ভাবে ভূষিতে যোগ্যতা নেই। সামনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এরূপ অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের চুক্তি ও লেন-দেনে ধোঁকা-প্রতারণা, কূট-কৌশল, আর পরস্পর ঝগড়া-কলহ তাদের ব্যস্ততার কাজ হবে।

অল্প বয়স্ক সাহাবা কিরামের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস (রা) প্রাকৃতিকভাবে খুবই কল্যাণপসন্দ, মুত্তাকী ও ইবাদতকারী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, যখন এরূপ সময় এসে যাবে-এ জাতীয় অকেজো মন্দ কাজ সম্পাদনকারী ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকারী ব্যক্তিগণ বাকি থাকবে, তখন তোমার কর্ম পদ্ধতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি তাঁর থেকে দিকনির্দেশনা চাইবেন, ফলে তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাপদ্ধতি ছিল। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তরের মোট কথা হচ্ছে, যখন এরূপ লোকদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যারা মনুষত্বের সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং উত্তম জিনিস গ্রহণ করার যোগ্যতাই তাদের থাকেনি, তখন মু'মিনগণের উচিত এমন লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।

এখানে এ কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদেরকে যে দিকনির্দেশনা দিতে চাচ্ছিলেন, সাহাবা কিরামকেই তার সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ বানাতেন। সেই সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারীগণকে আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম পুরস্কার দান করুন। যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এসব দিকনির্দেশ পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, এবং হাদীসের ইমামগণ সেগুলো গ্রন্থসমূহে সংরক্ষিত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)