কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৩৪. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা
হাদীস নং: ৪০১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪০১৪
ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা
মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু'মিনগণ! আত্ম-সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য
৪০১৪। হিশাম ইব্ন আম্মার (রাহঃ)...... উবূ উমায়্যাহ শা'বানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবু সালাবাহ খুশানী (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, এই আয়াত সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? তিনি বললেনঃ কোন আয়াত? আমি বললামঃ এই আয়াত
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
“হে মু'মিনগণ! আত্মা সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য। যদি সৎপথ পরিচালিত হও, তবে যে পথ-ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (৫ঃ ১০৫)
রাবী বলেনঃ আমি এ আয়াত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে। তখন তিনি বললেনঃ এই আয়াতের শাব্দিক অর্থের দিকে লক্ষ্য করে 'আমর বিল মারূফ "(ভাল কাজের আদেশ) এর প্রয়োজন নেই মনে করে ধোঁকা খেয়ো না। বরং “আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার” (ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ) করতে থাকো যে পর্যন্ত না এমন যুগ আসে, যখন লোকেরা কৃপণতা অনুসরণ করবে, প্রবৃত্তির তাড়নার শিকার হবে, দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দিবে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার মতামতকে পছন্দ করবে। আর তুমি এমন কাজ হতে দেখবে যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তোমার থাকবে না। এমন অবস্থায় বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং (সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিবে)। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসবে, যা হবে ধৈর্যের যুগ। সে সময় ধৈর্যধারণ করা মানে অগ্নিস্ফুলিংগ হাতের মুঠোয় রাখা। যে কেউ সে সময় নেক আমল করবে, তার অনুরূপ আমলকারী পঞ্চাশ জনের সওয়াব তাকে দান করা হবে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
“হে মু'মিনগণ! আত্মা সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য। যদি সৎপথ পরিচালিত হও, তবে যে পথ-ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (৫ঃ ১০৫)
রাবী বলেনঃ আমি এ আয়াত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে। তখন তিনি বললেনঃ এই আয়াতের শাব্দিক অর্থের দিকে লক্ষ্য করে 'আমর বিল মারূফ "(ভাল কাজের আদেশ) এর প্রয়োজন নেই মনে করে ধোঁকা খেয়ো না। বরং “আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার” (ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ) করতে থাকো যে পর্যন্ত না এমন যুগ আসে, যখন লোকেরা কৃপণতা অনুসরণ করবে, প্রবৃত্তির তাড়নার শিকার হবে, দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দিবে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার মতামতকে পছন্দ করবে। আর তুমি এমন কাজ হতে দেখবে যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তোমার থাকবে না। এমন অবস্থায় বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং (সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিবে)। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসবে, যা হবে ধৈর্যের যুগ। সে সময় ধৈর্যধারণ করা মানে অগ্নিস্ফুলিংগ হাতের মুঠোয় রাখা। যে কেউ সে সময় নেক আমল করবে, তার অনুরূপ আমলকারী পঞ্চাশ জনের সওয়াব তাকে দান করা হবে।
كتاب الفتن
بَاب قَوْلِهِ تَعَالَى { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ }
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَالَ أَيَّةُ آيَةٍ قُلْتُ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ) قَالَ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ " بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ وَرَأَيْتَ أَمْرًا لاَ يَدَانِ لَكَ بِهِ فَعَلَيْكَ خُوَيْصَّةَ نَفْسِكَ وَدَعْ أَمْرَ الْعَوَامِّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবু সা'আলাবা খুশানী (রা) কে আবূ উমাইয়া শা'বানী নামক এক তাবিঈ সূরা মায়িদার সেই ১০৫নং আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি এই উত্তর দেন যে, আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। (কেননা, এর প্রকাশ্য শব্দাবলিতে এ সন্দেহ জাগ্রত হতে পারে যে, যদি আমরা স্বয়ং আল্লাহ্ ও রাসূলের হিদায়াত অনুযায়ী চলি তবে অন্য লোকদের দীনের চিন্তা এবং 'আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার' আমাদের জিম্মায় নয়) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে উত্তর দিয়েছিলেন তা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)