কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৪. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা

হাদীস নং: ৪০৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪০৬৯
ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা
পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়
৪০৬৯। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের আলামত হিসাবে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ পাবে, তা হলো- পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং দিনের প্রথম ভাগে মানুষের সামনে 'দাব্বাতুল আরদ'-এর বের হওয়া।
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ এই দুইয়ের যেটাই প্রথম প্রকাশ পাবে, দ্বিতীয়টি তার নিকটবর্তী হবে।
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আরও বলেনঃ আমরা ধারণা মতে, সর্বপ্রথম পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হবে।
كتاب الفتن
بَاب طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَوَّلُ الآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ عَلَى النَّاسِ ضُحًى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَيَّتُهُمَا مَا خَرَجَتْ قَبْلَ الأُخْرَى فَالأُخْرَى مِنْهَا قَرِيبٌ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَلاَ أَظُنُّهَا إِلاَّ طُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উল্লেখ্য, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা বলেছিলেন তখন পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে তাঁর প্রতি এতটুকুই প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, কিয়ামতের বড় আলামতসমূহের মধ্যে এই দুই অসাধারণ ও অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ পাবে। একটি হচ্ছে- সূর্য যা সর্বদা পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় একদিন তা পশ্চিম দিক হতে উদয় হবে। দ্বিতীয়টি-এক আশ্চর্য ও অপরিচিত প্রাণী দাব্বাতুল আরদ অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে প্রকাশ পাবে। তখন তাঁকে এটা প্রতিভাত করা হয়নি যে, উভয় ঘটনার মধ্যে কোন ঘটনা প্রথমে সংঘটিত হবে এবং কোনটি পরে হবে। এজন্য তিনি বলেন, এগুলোর মধ্যে যেটিই প্রথমে হবে অন্যটি তার সাথে সাথেই হবে।

দাব্বাতুল আরদ নির্গমনের উল্লেখ কুরআন মজীদের সূরায়ে নাহলের বিরাশি নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক অমূলক কথা প্রসিদ্ধি লাভ করে আছে। তাফসীরের কোন কোন কিতাবেও এ সম্বন্ধে বর্ণনাসমূহ লিখা হয়েছে। তবে কুরআন মজীদের শব্দাবলি ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ দ্বারা জানা যায়, জন্তুটি যমীনের উপর চলাচল ও দৌড়ানোকারী পশু হবে, যাকে আল্লাহ্ তা'আলা অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে যমীন থেকে সৃষ্টি করবেন। (যেভাবে হযরত সালিহ্ (আ) এর উটনীকে পাহাড়ের পাথর থেকে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছিলেন) আল্লাহর নির্দেশে প্রাণীটি মানুষের ন্যায় কথা বলবে। আল্লাহ্ তা'আলার দলীল প্রতিষ্ঠা করবে। কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্রাণীটি মক্কা মুকাররমার সাফা টিলা হতে বের হবে।

আলোচ্য হাদীসে উল্লিখিত উভয় ঘটনা অর্থাৎ পূর্ব দিকের পরিবর্তে পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং কোন প্রাণী (দাব্বাতুল আরদ)-এর জন্ম ও বংশধারার সাধারণ পরিচিত পদ্ধতির পরিবর্তে যমীন হতে নির্গত হওয়া স্পষ্টত সেই প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থী যা এ জগতের সাধারণ নীতি। এজন্য এরূপ নির্বোধ, যারা আল্লাহ্ তা'আলার কুদরত সম্বন্ধে জ্ঞাত নয় এসব বিষয়ে তাদের সন্দেহ হতে পারে। কিন্তু তাদের এ সব বুঝা উচিত, এ সব তখন হবে যখন দুনিয়ার এই প্রচলিত পদ্ধতি শেষ করা হবে, এবং কিয়ামতের যুগ শুরু হবে, আসমান ও যমীনকে ধ্বংস করে অন্য জগত প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তখন এসবই দৃষ্টিগোচরে আসবে যা আমাদের এ জগতের পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখানে এ কথা উল্লেখযোগ্য যে, কিয়ামতের 'আলামতে খাস্সা' ও 'আলামতে কুবরাও দুই প্রকার। কতক এইরূপ- যেগুলোর প্রকাশ কিয়ামতের সম্পূর্ণ নিকটে হবে। যেন এসব আলামতের প্রকাশ দ্বারাই কিয়ামত শুরু হবে, যেভাবে সুবহি সাদিকের প্রকাশ দিনের আগমনের আলামত হয়ে থাকে। আর তখন থেকেই দিন শুরু হয়ে যায়। আলোচ্য হাদীসে উল্লিখিত উভয় আলামতই অন্তর্ভুক্ত। আর এ জাতীয় আলামতসমূহের মধ্যে সর্ব প্রথম এগুলোই প্রকাশ পাবে। এগুলোর প্রকাশ যেন এ ঘোষণা যে, আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে এখন পর্যন্ত দুনিয়া যে পদ্ধতির ওপর চলছিল, এখন তা শেষ হয়ে গেছে। আর কিয়ামতের যুগ ও ভিন্ন পদ্ধতি আরম্ভহয়েছে। কিয়ামতের 'আলামতে কুবরার' মধ্যে কতক এইরূপ, যেগুলোর প্রকাশ কিয়ামত থেকে কিছুদিন পূর্বে হবে, আর সেগুলো কিয়ামতের নিকটবর্তী আলামত হবে। দাজ্জালের আবির্ভাব ও হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ (যার উল্লেখ সামনে লিপিবদ্ধাধীন হাদীস সমূহে আসছে) কিয়ামতের এ জাতীয় আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)