কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ
৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
হাদীস নং: ৪১০০
আন্তর্জাতিক নং: ৪১০০
যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি
৪১০০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ).........আবু যার গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়াতে হালাল বস্তুকে হারাম করা এবং নিজের ধন সম্পদ নষ্ট করা, যুহদ নয়, বরং দুনিয়াতে যুহদ হচ্ছেঃ তোমার হাতে যা আছে, তা যেন তোমার জন্য অধিক নির্ভরতার কারণ না হয়, যা আল্লাহর হাতে আছে তার চাইতে। যখন তুমি (দুনিয়াতে) কোন বিপদ আপদে পতিত হবে, তখন তুমি তার প্রতিদানের জন্য অত্যন্ত আগ্রহশীল থাকবে, এই ভেবে যে, (সে মুসীবতের পুরস্কার) তোমার জন্য আখিরাতে মওজুদ রাখা হয়েছে।
হিশাম বলেনঃ আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ) বলেছেন, অন্যান্য হাদীসের তুলনায়, এই হাদীসখানি হচ্ছে স্বর্ণখনির খাঁটি স্বর্ণের মত অর্থাৎ অত্যন্ত বিশুদ্ধ হাদীস।
হিশাম বলেনঃ আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ) বলেছেন, অন্যান্য হাদীসের তুলনায়, এই হাদীসখানি হচ্ছে স্বর্ণখনির খাঁটি স্বর্ণের মত অর্থাৎ অত্যন্ত বিশুদ্ধ হাদীস।
كتاب الزهد
بَاب الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ وَاقِدٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لَيْسَ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا بِتَحْرِيمِ الْحَلاَلِ وَلاَ فِي إِضَاعَةِ الْمَالِ وَلَكِنِ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا أَنْ لاَ تَكُونَ بِمَا فِي يَدَيْكَ أَوْثَقَ مِنْكَ بِمَا فِي يَدِ اللَّهِ وَأَنْ تَكُونَ فِي ثَوَابِ الْمُصِيبَةِ إِذَا أُصِبْتَ بِهَا أَرْغَبَ مِنْكَ فِيهَا لَوْ أَنَّهَا أُبْقِيَتْ لَكَ " . قَالَ هِشَامٌ كَانَ أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ يَقُولُ مِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الأَحَادِيثِ كَمِثْلِ الإِبْرِيزِ فِي الذَّهَبِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বৈরাগ্য সাধনের নাম যুহদ নয়। বাড়ি-ঘর, ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ত্যাগের নাম যুহদ নয়। আল্লাহর যাহিদ বান্দা কখনো হালাল বস্তুকে নিজের জন্য হারাম করেন না এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ বরবাদ করেন না। যাহিদ ব্যক্তি সম্পদ সংগ্রহকে তাঁর জীবনের লক্ষ্য মনে করেন না। সম্পদের খাতিরে সম্পদ সংগ্রহকে তিনি পসন্দ করেন না। সম্পদের মহব্বতে বা সম্পদ উপার্জনের জন্য তিনি কখনো তাঁর আখিরাত বরবাদ করেন না। দুনিয়ার যে কাজ আখিরাতকে খারাপ করে, তা আপাতদৃষ্টিতে খুব লাভজনক হলেও তা তিনি পরিত্যাগ করেন। দুনিয়া প্রার্থী না হওয়া সত্ত্বেও যাহিদ ব্যক্তির কাছে সম্পদ আসতে পারে এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি সম্পদকে বরবাদ করেন না। তিনি তা নিজের ও পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ এবং আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেন।
যাহিদ ব্যক্তি দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন। আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহ তা'আলা বান্দাদেরকে যে নিয়ামত ও ফযীলত দান করবেন তা যাহিদ ব্যক্তির নিকট দুনিয়ার নিয়ামতের চেয়ে অধিক প্রিয়। আখিরাতের ফযীলত ও নিয়ামতের উপরই যাহিদ ব্যক্তির একমাত্র আশা-ভরসা। যাহিদ বান্দা বিপদে ধৈর্যশীল। কখনো হা-হুতাশ করেন না, বিপদ কেন পতিত হল বা বিপদ পতিত না হলে ভাল হতো, এরূপ কথা তিনি বলেন না এবং এ ধরনের চিন্তাও মনের কোণে স্থান দেন না। তিনি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করতে চান। ধৈর্য ধারণকারীর উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং তাকে তিনি এত বেশি সওয়াব দেন যা তিনি বিপদমুক্ত অবস্থায় আমল করে হাসিল করতে পারতেন না।
যাহিদ ব্যক্তি দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন। আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহ তা'আলা বান্দাদেরকে যে নিয়ামত ও ফযীলত দান করবেন তা যাহিদ ব্যক্তির নিকট দুনিয়ার নিয়ামতের চেয়ে অধিক প্রিয়। আখিরাতের ফযীলত ও নিয়ামতের উপরই যাহিদ ব্যক্তির একমাত্র আশা-ভরসা। যাহিদ বান্দা বিপদে ধৈর্যশীল। কখনো হা-হুতাশ করেন না, বিপদ কেন পতিত হল বা বিপদ পতিত না হলে ভাল হতো, এরূপ কথা তিনি বলেন না এবং এ ধরনের চিন্তাও মনের কোণে স্থান দেন না। তিনি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করতে চান। ধৈর্য ধারণকারীর উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং তাকে তিনি এত বেশি সওয়াব দেন যা তিনি বিপদমুক্ত অবস্থায় আমল করে হাসিল করতে পারতেন না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: