কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা

হাদীস নং: ৪২০৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪২০৪
যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা
রিয়াও খ্যাতি
৪২০৪। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)....... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আসলেন, আমরা তখন মাসীহ দাজ্জালের কথা আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের সে বিষয়ে অবহিত করবো না, যা আমার নিকট তোমাদের জন্য মাসীহ্ দাজ্জালের ফিতনা থেকেও অধিক ভয়াবহ? তিনি (রাবী) বললেনঃ আমরা বললাম, অবশ্যই বলুন। অতঃপর তিনি বললেনঃ (তা হচ্ছে) শিরকে খফী (গোপনী শিরক)। এর ধরন হচ্ছে যে, মানুষ সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায়, আর সে লোক দেখানোর জন্য নিজের সালাত সুন্দর করে আদায় করে।
كتاب الزهد
بَاب الرِّيَاءِ وَالسُّمْعَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ رُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْنَا بَلَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلاَتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মসীহ দাজ্জাল ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টিকারী। দাজ্জাল দুর্বল মানুষের ঈমান-আমল বরবাদ করবে এবং দুনিয়াবাসীর প্রচুর ক্ষতি সাধন করবে। কিন্তু দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর হল রিয়া বা গোপন শিরক। আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দাগণ মনে-প্রাণে দাজ্জালকে ঘৃণা করেন এবং আশা করা যায় যে, তারা ঘৃণিত দাজ্জাল থেকে নিজেদের ঈমান-আমল রক্ষা করতে পারবেন। কিন্তু লোক দেখানো ইবাদতের অনিষ্টকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা বা রিয়াকে নগণ্য মনে করার কারণে কিংবা মানুষের বাহবা ও প্রশংসার মোহের জন্য বান্দা নেক আমল করলে কোন সওয়াব পাবে না, বরং অপরাধী হবে। সে এভাবে গোপন শিরকের গোপন পথে এবং কোন কোন সময় সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে নিজের ঈমান ও আমল বিনষ্ট করবে।

রিয়া শুধু নামাযের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা যে কোন ইবাদতে হতে পারে। যেখানে ঈমান ও আমল ধ্বংস করবে।

ইমাম আহমদ মাহমূদ ইবনে লবীদ (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রিয়াকে ছোট শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قالول: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ»

"নবী করীম ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ছোট শিরকের ভয় করি। সাহাবায়ে-কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি বললেন: রিয়া।" (মুসনাদে আহমদ)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান