আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

হাদীস নং:
আন্তর্জাতিক নং:
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
তাহারাতের ফযীলত।
২. ইসহাক ইবন মুসা আনসারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন মুসলিম অথবা মু‘মিন বান্দা উযু করে আর সে তার মুখ ধোয় তখন উযুর পানি অথবা উযুর পানির শেষ ফোটার সাথে সাথে তার চেহারা থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে তার দু‘চোখ দিয়ে দেখে ছিল; যখন সে তার দু‘হাত ধোয় তখন উযুর পানি বা উযুর পানির শেষ ফোটার সাথে সাথে তার উভয় হাত থেকে সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে হাত দিয়ে ধরে ছিল; এমন কি শেষ পর্যন্ত সে তার গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়।
أبواب الطهارة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ أَوْ نَحْوِ هَذَا وَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ مَالِكٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ . وَأَبُو هُرَيْرَةَ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ فَقَالُوا عَبْدُ شَمْسٍ وَقَالُوا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ الأَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَثَوْبَانَ وَالصُّنَابِحِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ وَسَلْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَالصُّنَابِحِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ . وَالصُّنَابِحُ بْنُ الأَعْسَرِ الأَحْمَسِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي " .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান ও সহীহ।

এই রিওয়ায়াতটি হল মালিক-সুহাইল-সুহাইলের পিতা-হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। সুহাইলের পিতা আবু সালিহ হচ্ছেন আবু সালিহ আস্-সম্মান। তাঁর নাম হল যাকওয়ান।
আবু হুরায়রা (রা ) এর প্রকৃত নাম সম্পর্কে মত বিরোধ বিদ্যামান। কেউ কেউ বলেন, আবদ শামস; আবার কেউ কেউ বলেন, আবুল্লাহ ইবনে আমর। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারীও এইরূপ বলেছেন। আর এটাই অধিকতর শুদ্ধ।
এই বিষয়ে উসমান, ছাওবান, সুনাবিহী, আমর ইবনে আবাসা, সালমান এবং আবদুলুাহ ইাবন আমর (রা ) থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। যে সুনাবিহী তাহারাতের ফযীলত সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন ইনি হলেন আব্দুল্লাহ সুনাবিহী। আর আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) হতে যে সুনাবিহী রিওয়ায়াত করেন তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে কিছু শোনার সুযোগ পাননি। তাঁর নাম হল আবদুর রহমান ইবনে উসায়লা। উপনাম হল আবু আবদিল্লাহ। ইনি রাসূল (ﷺ) এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু যখন মদীনার পথে তখন রাসূল (ﷺ) এর ইন্‌তিকাল হয়। রাসূল (ﷺ) থেকে তিনি কিছু সংখ্যক হাদীছ (অন্যের সূত্রে) রিওয়াত করেছেন। সুনাবিহ ইবনুল আ‘সার আল-আহমাসী ছিলেন রাসূল (ﷺ) এর সাহাবী তাঁকেও সুনাবিহী বলা হয়। তাঁর বর্ণিত হাদীছটি হল, আমি রাসুল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে,তিনি ইরশাদ করেন, তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গৌরব করব। সুতরাং তোমরা আমার পরে পরস্পরে খুন-খারাবী করো না।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)