আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৩
আন্তর্জাতিক নং: ২০৩
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
রাত (তাহাজ্জুদ) - এর আযান।
২০৩. কুতায়বা (রাহঃ) ...... সালিম তদীয় পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন বিলাল রাতের আযান দেয়। সুতরাং তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না ইবনে উম্মু মাকতুমের আযান শুনতে পাও।[১]
[১] রামযান মাসে বিলাল (রাযিঃ) সাহরীর আযান দিতেন। এ আযানকে যেন কেউ ফজরের আযান বলে বিভ্রান্ত না হয় এই উদ্দেশ্যে রাসূল (ﷺ) উক্ত কথা বলেছিলেন
[১] রামযান মাসে বিলাল (রাযিঃ) সাহরীর আযান দিতেন। এ আযানকে যেন কেউ ফজরের আযান বলে বিভ্রান্ত না হয় এই উদ্দেশ্যে রাসূল (ﷺ) উক্ত কথা বলেছিলেন
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الأَذَانِ بِاللَّيْلِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا تَأْذِينَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَعَائِشَةَ وَأُنَيْسَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَسَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الأَذَانِ بِاللَّيْلِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ بِاللَّيْلِ أَجْزَأَهُ وَلاَ يُعِيدُ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَذَّنَ بِلَيْلٍ أَعَادَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ . وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ بِلاَلاً أَذَّنَ بِلَيْلٍ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنَادِيَ " إِنَّ الْعَبْدَ نَامَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ حَدِيثُ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هُوَ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَأَخْطَأَ فِيهِ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, আয়িশা, উনায়সা, আনাস, আবু যর ও সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। রত্রিকালীন এই আযানের বিষয়ে আলিমগলেন মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আলিমগণের কতক বলেন মুআয্যিন যদি রত্রিতে আযান দিয়ে দেয় তবে আর ফজরের জন্য পুনর্বার আযান দিতে হবে না। এ হল ইমাম মালিক, ইবনে মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। আর কতক আমি বলেন রাত্রিতে আযান দিলে ফজরের জন্য পুনর্বার আযান দিতে হবে। এ হল সুফিয়ান ছাওরী এর অভিমত। হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু রাত্রে আযান দিয়ে ফেলেছিলেন তখন রাসূল (ﷺ) তাকে এই কথা ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিলেন যে, আল্লাহর বান্দা বিলাল ঘুমিয়ে পড়েছিল (তাই সময়টা ঠিক ধরতে পারেনি।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদিসটি মাহফুজ বা সংরক্ষেত নয়। সহীহ রিওয়ায়াত হল উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর প্রমুখ নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। এতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন বিলাল রতের আযান দেয়। তোমরা ইবনে উম্মু মাকতুমের আযান না শোনা পর্যন্ত পানাহার করতে থাক। নাফি (রাহঃ) থেকে আবদুল আযীয ইবনে আবী রাওওয়াদ (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক মুআয্যিন রাত্রি থাকতেই আযান দিয়ে ফেলেছিল তখন তিনি তাকে পুনরায় (ফজরের জন্য) আযান দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি সহীহ নয়। কেননা, নাফি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রটি মুনকাতি’। রাবী হাম্মাদ সালামা (রাহঃ) হয়ত এই রিওয়ায়াতটির কথাই বলতে চেয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রিয়ায়াতটই হল সহীহ। তা হল নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং যুহরী সালিম ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি যে রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন বিলাল রাতের আযান দেয়।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ হাম্মাদ (রাহঃ) বর্ণিত হাদিসটি (২০৩-খ) যদি সহীহ হয় তবে এই হাদিসটির কোন অর্থ থাকেনা। কেননা এতে উল্লেখ আছে ان بلال يؤذن بليل এর يؤذن শব্দটি ভবিষ্যতকাল বাচক। এর মর্ম হল বিলাল ভবিষ্যতে আযান দিবে। সুতরাং ফজরের উদয়ের পূর্বে আযান প্রদানের কারণে পুনর্বার দেওয়ার নির্দেশ যদি রাসুল (ﷺ) তাঁকে দিয়ে থাকতেন তবে তিনি ভবিষ্যতকাল বাচক বাক্য ان بلال يؤذن بليل বলতেন না। আলী ইবনুল মাদীনী (ﷺ) বলেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামা আইয়্যূব নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি মাহফূজ বা সংরক্ষিত নয়। এতে হাম্মাদ ইবনে সালামার তরফ থেকে ভুল সংঘটিত হয়েছ।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদিসটি মাহফুজ বা সংরক্ষেত নয়। সহীহ রিওয়ায়াত হল উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর প্রমুখ নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। এতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন বিলাল রতের আযান দেয়। তোমরা ইবনে উম্মু মাকতুমের আযান না শোনা পর্যন্ত পানাহার করতে থাক। নাফি (রাহঃ) থেকে আবদুল আযীয ইবনে আবী রাওওয়াদ (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক মুআয্যিন রাত্রি থাকতেই আযান দিয়ে ফেলেছিল তখন তিনি তাকে পুনরায় (ফজরের জন্য) আযান দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি সহীহ নয়। কেননা, নাফি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রটি মুনকাতি’। রাবী হাম্মাদ সালামা (রাহঃ) হয়ত এই রিওয়ায়াতটির কথাই বলতে চেয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রিয়ায়াতটই হল সহীহ। তা হল নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং যুহরী সালিম ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি যে রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন বিলাল রাতের আযান দেয়।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ হাম্মাদ (রাহঃ) বর্ণিত হাদিসটি (২০৩-খ) যদি সহীহ হয় তবে এই হাদিসটির কোন অর্থ থাকেনা। কেননা এতে উল্লেখ আছে ان بلال يؤذن بليل এর يؤذن শব্দটি ভবিষ্যতকাল বাচক। এর মর্ম হল বিলাল ভবিষ্যতে আযান দিবে। সুতরাং ফজরের উদয়ের পূর্বে আযান প্রদানের কারণে পুনর্বার দেওয়ার নির্দেশ যদি রাসুল (ﷺ) তাঁকে দিয়ে থাকতেন তবে তিনি ভবিষ্যতকাল বাচক বাক্য ان بلال يؤذن بليل বলতেন না। আলী ইবনুল মাদীনী (ﷺ) বলেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামা আইয়্যূব নাফি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি মাহফূজ বা সংরক্ষিত নয়। এতে হাম্মাদ ইবনে সালামার তরফ থেকে ভুল সংঘটিত হয়েছ।