আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
মাগরিবের কিরাআত।
৩০৮. হান্নাদ (রাহঃ) ..... উম্মুল ফাদল (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর শেষ রোগ-শয্যায় ছিলেন। একদিন অসুস্থতার কারণে মাথায় পট্রি বেঁধে আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন এবং মাগরিবের নামায আদায় করলেন। এতে তিনি সূরা আল-মুরসালাত তিলাওয়াত করেছিলেন। এরপর মৃত্যু পর্যন্ত আর কোন নামায তিনি পড়তে পারেন নি।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُمِّهِ أُمِّ الْفَضْلِ، قَالَتْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَاصِبٌ رَأْسَهُ فِي مَرَضِهِ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ بِالْمُرْسَلاَتِ قَالَتْ فَمَا صَلاَّهَا بَعْدُ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ الْفَضْلِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِالأَعْرَافِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا . وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ . وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى أَنِ اقْرَأْ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ . قَالَ وَعَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَذُكِرَ عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُقْرَأَ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ بِالسُّوَرِ الطُّوَلِ نَحْوِ الطُّورِ وَالْمُرْسَلاَتِ قَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ أَكْرَهُ ذَلِكَ بَلْ أَسْتَحِبُّ أَنْ يُقْرَأَ بِهَذِهِ السُّوَرِ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে জুবাইর ইবনে মুতইম, ইবনে উমর, আবু আইয়্যূব, ও যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ উম্মুল ফযল রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। নবী (ﷺ)থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের দুই রাকআতে সূরা আল-আ’রাফ তিলাওয়াত করেছেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের নামায ‘কিসার মুফাসসাল’ থেকে তিলাওয়াত করতে আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে লিখেছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের নামাযে ‘কিসার মুফাসসাল’ থেকে তিলাওয়াত করতেন।

ফকীহ আলিমগণ এই আমল করেছেন। ইবনে মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের নামাযে ‘তিওয়াল মুফাসসাল’ সূরাসমূহ যেমন সূরা তূর, সূরা আল-মুরনামাযের মত সূরা তিলাওয়াত করা মাকরূহ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।* ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেনঃ আমি তা মাকরূহ বলে মনে করি না; বরং এই ধরনের সূরা মাগরিবে তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।

*ইমাম মালিক (রাহঃ) মাগরিবের নামাযে এই ধরণের বড় সূরা তিলাওয়াত অভ্যাসে পরিণত করা মাকরূহ মনে করতেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মাগরিবের নামাযে কিসারে মুফাছ্‌ছাল (ঝিলঝাল থেকে নাছ পর্যনত্ম), ইশার নামাযে আওয়াছতে মুফাছ্‌ছাল (ছূরা ত্বরিক থেকে বায়্যিনাহ পর্যনত্ম) এবং ফজরে নামাযে তিওয়ালে মুফাছ্‌ছাল (হুজুরাত থেকে বুরম্নজ পর্যনত্ম) পড়তেন। আর পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল স. যোহরের নামাযে তিওয়ালে মুফাছ্‌ছাল আর আসরের নামাযে আওসাতে মুফাছ্‌ছাল (ছূরা ত্বরিক থেকে বায়্যিনাহ পর্যনত্ম) পড়তেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে উপরিউক্ত নিয়মে কুরআন পাঠ করা উত্তম, তবে আবশ্যকীয় নয়। এ নিয়মের বিপরীতে রসূলুলস্নাহ স. এবং সাহাবায়ে কিরাম কুরআনের বিভিন্ন অংশ থেকে পাঠ করতেন মর্মে অনেক সহীহ হাদীসের বর্ণনা রয়েছে। ইমামের তিলাওয়াতের প্রতি মুসলিস্নদের আগ্রহ ও একাগ্রতা দেখা গেলে এবং দুর্বল, অসুস্থ্য বা ব্যসত্ম মানুষ না থাকলে ইমাম সাহেব কিরাত লম্বা করতে পারেন। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় উপরিউক্ত নিয়ম বা তার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করা উত্তম হবে।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান