আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
মসজিদে প্রবেশের দুআ।
৩১৫. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) বলেন যে, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) বলেছেনঃ আমি মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান-এর সাথে সাক্ষাত করে এই হাদীসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি তখন আমাকে রিওয়ায়াত করলেন যে, রাসূল (ﷺ) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেনঃ رَبِّ افْتَحْ لِي بَابَ رَحْمَتِكَ আর যখন বের হতেন তখন বলতেন : رَبِّ افْتَحْ لِي بَابَ فَضْلِكَ
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ مَا يَقُولُ عِنْدَ دُخُولِ الْمَسْجِدِ
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَسَنِ بِمَكَّةَ فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثَنِي بِهِ، قَالَ كَانَ إِذَا دَخَلَ قَالَ " رَبِّ افْتَحْ لِي بَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ $$قَالَ رَبِّ افْتَحْ لِي بَابَ فَضْلِكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ وَأَبِي أُسَيْدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ فَاطِمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ . وَفَاطِمَةُ بِنْتُ الْحُسَيْنِ لَمْ تُدْرِكْ فَاطِمَةَ الْكُبْرَى إِنَّمَا عَاشَتْ فَاطِمَةُ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَشْهُرًا .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আবু উসায়দ ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান। তবে এর সনদ মুত্তাসিল নয়। কেননা এটির রাবী হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কন্যা ফাতিমা (রাহঃ) তাঁর পিতামহী মহিয়সী ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে দেখেননি। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী (ﷺ)-এর ইন্‌তিকালের পর অল্প কয়েক মাসই জীবিত ছিলেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন মজীদ থেকে বুঝা যায় যে, 'রহমত' শব্দটি বিশেষত রূহানী ও পারলৌকিক নিয়ামতসমূহের ব্যাপারেই প্রযোজ্য। যেমন নবুয়ত, বেলায়েত, আল্লাহ্ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য এবং জান্নাতের নিয়ামতসমূহ। যেমন সূরা যুখরুফে আছেঃ

وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ

"তোমার প্রভুর রহমত তাদের সে অর্থ-সম্পদের চাইতে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করে থাকে।"

পক্ষান্তরে 'ফযল' শব্দটি প্রধানত দুনিয়াবী নিয়ামতসমূহের ব্যাপারই প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যেমন জীবিকার সচ্ছলতা, জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বা প্রাচুর্য ইত্যাদি। যেমন সূরা জুমু'আয় বলা হয়েছে:

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْل اَللّٰهِ

"যখন সালাত সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন তোমার যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর ফযল অন্বেষণ কর।"
সুতরাং মসজিদ যেহেতু সে সমস্ত আমলের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, যেগুলো দ্বারা রূহানী ও পারলৌকিক নিয়ামতসমূহ লাভ করা যায়, এজন্যে মসজিদে প্রবেশকালে রহমতের দরজা খুলে দেওয়ার প্রার্থনা এবং মসজিদ থেকে নির্গমনকালে আল্লাহ্ ফযল বা পার্থিব নিয়ামতসমূহ প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।১

টিকা ১. আবু দাউদ বা ইব্‌ন মাজার উদ্ধৃতিসহ মসজিদে নববীর ঠিক হুযুর ﷺ-এর মাযার শরীফ সংলগ্ন গেটে একখানি হাদীস দেখার সুযোগ এ অনুবাদকের ১৯৯৪ সালের হজ্বের সময় হয়েছে, যাতে হুযুর ﷺ মসজিদে প্রবেশকালে এরূপ দু'আ করতে বলেছেন:

بِسْمِ اللّٰهِ وَالصَّلٰوةُ عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابِ رَحْمَتِكَ

অর্থাৎ বিসমিল্লাহ ও দুরূদের পর রহমতের দু'আ করতে সে হাদীসে বলা হয়েছে।
"হে আল্লাহ! তোমার স্তব-স্তুতির সাথে সাথে আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দরবারে তওবা করছি।" তা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ মজলিসে কৃত তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।
-(জামে' তিরমিযী)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: