আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৪
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
ইমাম দুই রাকআতের পর ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে।
৩৬৪. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) .... শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ একবার মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) নামাযে আমাদের ইমামতি করলেন। কিন্তু দুই রাকআতের পর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। মুসল্লীরা তাকে সতর্ক করতে সুবহানাল্লাহ পাঠ করলেন। তিনিও তখন সুবহানাল্লাহ বললেন। নামায শেষে তিনি বসাবস্থায় সিজদা সাহুও করলেন। পরে বললেন যে, তিনি এখন যেমন করলেন রাসূল (ﷺ)ও এই ক্ষেত্রে তাঁদের নিয়ে এমন করেছিলেন।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الإِمَامِ يَنْهَضُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ نَاسِيًا
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَنَهَضَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَسَبَّحَ بِهِ الْقَوْمُ وَسَبَّحَ بِهِمْ فَلَمَّا صَلَّى بَقِيَّةَ صَلاَتِهِ سَلَّمَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ بِهِمْ مِثْلَ الَّذِي فَعَلَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَسَعْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ابْنِ أَبِي لَيْلَى مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . قَالَ أَحْمَدُ لاَ يُحْتَجُّ بِحَدِيثِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى هُوَ صَدُوقٌ وَلاَ أَرْوِي عَنْهُ لأَنَّهُ لاَ يَدْرِي صَحِيحَ حَدِيثِهِ مِنْ سَقِيمِهِ وَكُلُّ مَنْ كَانَ مِثْلَ هَذَا فَلاَ أَرْوِي عَنْهُ شَيْئًا . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ جَابِرٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُبَيْلٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ . وَجَابِرٌ الْجُعْفِيُّ قَدْ ضَعَّفَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ تَرَكَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَغَيْرُهُمَا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مَضَى فِي صَلاَتِهِ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ مِنْهُمْ مَنْ رَأَى قَبْلَ التَّسْلِيمِ وَمِنْهُمْ مَنْ رَأَى بَعْدَ التَّسْلِيمِ . وَمَنْ رَأَى قَبْلَ التَّسْلِيمِ فَحَدِيثُهُ أَصَحُّ لِمَا رَوَى الزُّهْرِيُّ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে উকবা ইবনে আমির, সা’দ ও আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ মুগীরা ইবনে শু’বা বর্ণিত এই হাদীসটি তাঁর থেকে একাধিক সনদে আছে। আলিমগণ ইবনে আবী লায়লার স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। ইমাম আহমদ বলেনঃ ইবনে আবী লায়লার হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আবী লায়লা সত্যবাদী বটে কিন্তু আমি তার থেকে হাদীস বর্ণনা করি না। কারণ তাঁর দুর্বল ও সহীহ হাদীসগুলো আলাদা আলাদা বুঝা যায় না। আর যাদের অবস্থা এই, তাদের কোন হাদীস আমি বর্ণনা করি না। এই হাদীসটি মুগীরা ইবনে শু’বা থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। সুফিয়ান ... জাবির, মুগীরা ইবনে শুবা ... কায়স, ইবনে আবী হাযিম ... মুগীরা ইবনে শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদেও এটি বর্ণিত আছে। তবে এই সনদে উল্লেখিত রাবী জাবির আল-জু’ফীকে কতক আলিম যঈফ বলে মন্তব্য করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী প্রমুখ হাদীস বিশরদ তাকে বর্জন করেছেন।

আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেনঃ দুই রাকআতের পর কেউ যদি (ভুলে) দাঁড়িয়ে যায় তবে সে নামায চালিয়ে যাবে এবং শেষে সিজদা সাহু করবে। কেউ কেউ বলেনঃ সালামের পর সিজদা সাহু করবে, আর কেউ কেউ বলেন সালামের আগেই সিজদা সাহু করবে। যারা বলেন সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করবে, তাদের কথা অধিকতর সঠিক। কেননা যুহরী ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাহঃ) আবদুর রহমান আল-আ’রাজের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান