আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩. বিতর নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪৮৬
বিতর নামাযের অধ্যায়
নবী (ﷺ) এর উপর সালাত (দরূদ) পাঠের ফযীলত।
৪৮৬. আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে মুসলিম আল-মুসহিফী আল-বালখী (রাহঃ) ...... উমর উবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর উপর সালাত (দরূদ) পাঠ না করা পর্যন্ত দুআ আসমান ও যমীনের মাঝে মউকুফ অবস্থায় থাকে এবং এর কিছুই আল্লাহর নিকটে উত্থিত হয় না।
أبواب الوتر
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سَلْمٍ الْمَصَاحِفِيُّ الْبَلْخِيُّ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، عَنْ أَبِي قُرَّةَ الأَسَدِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لاَ يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীসটিতে এ ব্যাপারে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে যে, দু'আকারী ব্যক্তির সর্বপ্রথম আল্লাহর স্তব-স্তুতি করা, তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ পাঠ করা এবং তারপর আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে নিজের অভাব-অনটনের ব্যাপারে দু'আ করা উচিত। হযরত উমর (রা)-এর উক্ত বাণী দ্বারা জানা গেল যে, দু'আর পরেও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত প্রেরণ করা উচিত। তা দু'আ কবুল হওয়ার ওসীলা স্বরূপ।

'হিসনে হাসীন' গ্রন্থে শায়খ আবূ সুলায়মান দারানী (র)-এর যবানীতে বর্ণিত হয়েছে যে, দরূদ শরীফ (যা রাসূলুল্লাহ সা-এর জন্যে একটা সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের দু'আ) তা তো আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই কবুল করে থাকেন। তারপর বান্দা যখন তার দু'আর পূর্বেও আল্লাহ তা'আলার কাছে হুযুর ﷺ-এর জন্যে দু'আ করে এবং তারপরেও তাঁর জন্যে দু'আ করে, তখন আল্লাহ তা'আলার দয়াল সত্তার কাছে এমনটি আশা করা যায় না যে, তিনি আগের এবং পরের দু'আগুলো তো কবুল করে নেবেন এবং মধ্যকার এ বেচারার দু'আটি প্রত্যাখ্যান করে দেবেন। এ জন্যে পূর্ণ আশা রাখা চাই যে, যে দু'আর আগে ও পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ থাকবে, তা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই কবুল হবে।

উপরোক্ত রিওয়ায়াতে একথা স্পষ্ট নয় যে, দু'আ কবুলিয়ত সংক্রান্ত উক্ত বক্তব্যটি হযরত উমর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখে শুনেছিলেন, নাকি এটা তাঁর নিজের বাণী। কিন্তু এ এমনি একটি বক্তব্য, যা কোন ব্যক্তি নিজে থেকে বলার সাহস পাবেন না, বরং আল্লাহর নবীর মুখে শুনে বলাটাই অধিকতর বুদ্ধিগ্রাহ্য। এ জন্যে মুহাদ্দিসগণের সর্বজন স্বীকৃত মূলনীতি অনুযায়ী এ রিওয়ায়াত হাদীসে মারফু শ্রেণীভুক্ত হতে পারে এবং এটি ঐ পর্যায়ের বলেই গণ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান