আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫. দুই ঈদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৪২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪২
দুই ঈদের অধ্যায়
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে আহার করা।
৫৪২. হাসান ইবনে সাব্বাহ আল-বাযযার আল-বাগদাদী (রাহঃ) ..... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঘর থেকে বের হতেন না আব ঈদুল আযহার দিন নামায আদায় না করা পর্যন্ত কিছু আহার করতেন না। - ইবনে মাজাহ ১৭৫৬

এই বিষয়ে আলী ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ বুরায়দা ইবনে খুসায়ব আল-আসলামী বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি ছাড়া সাওয়াব ইবনে উতবার অন্য কোন হাদীস সম্পর্কে আমরা জানি না। আলিমগণের একদল ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু আহার না করা পর্যন্ত ঘর থেকে বের না হওয়া মুস্তাহাব বলে মনে করেন। তার জন্য খেজুর খাওয়া মুস্তাহাব। এমনিভাবে নামায শেষে ফিরে না আসা পর্যন্ত ঈদুল আযহার দিনে কিছু আহার করবে না।
أبواب العيدين
باب مَا جَاءَ فِي الأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ الْخُرُوجِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ ثَوَابِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ وَلاَ يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّيَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بُرَيْدَةَ بْنِ حُصَيْبٍ الأَسْلَمِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لاَ أَعْرِفُ لِثَوَابِ بْنِ عُتْبَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يَخْرُجَ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ شَيْئًا وَيُسْتَحَبُّ لَهُ أَنْ يُفْطِرَ عَلَى تَمْرٍ وَلاَ يَطْعَمَ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يَرْجِعَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে যাওয়া ছুন্নাত। আর ঈদুল আযহার দিন নামায থেকে ফিরে এসে খাওয়া ছুন্নাত। হযরত আনাস রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, রসূল স. ঈদুল ফিতরের দিনে বেজোড় সংখ্যায় খেয়ে ঈদগাহের দিকে রওনা হতেন। (বুখারী-৯০৫) এটাই হানাফী মাযহাবের মত। (শামী: ২/১৬৮)

২. সহীহ বুখারীতে হযরত আনাস (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাবার পূর্বে কয়েকটি খেজুর খেয়ে নিতেন এবং বেজোড় সংখ্যায় খেতেন। ঈদুল আযহার দিন সালাতের পরে আহারের কথা আসার কারণ হল, যেন ঐদিন প্রথম খাবার কুরবানীর গোস্ত দ্বারা হয়, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের আপ্যায়ন। আর ঈদুল ফিতরের দিন সালাত আদায়ের পূর্বে কিছু আহার করে নেয়ার কারণ এই হয়ে থাকবে যে, আল্লাহর নির্দেশে বান্দা গোটা রমাযান মাসের দিনসমূহে খানা বন্ধ রেখেছিল। আজ যেহেতু খানা গ্রহণের অনুমতি পাওয়া গেছে এবং এতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা প্রভু প্রদত্ত আপ্যায়নের স্বাদ দিনের প্রথমভাগেই গ্রহণ করে। কারণ এটাই বান্দার প্রকৃত অবস্থান
گر طمع خواهد زمن سلطان دیں + خاك بر فرق قناعت بعد ازیں
ভোগের হুকুম দিলে প্রভু, ত্যাগে আমি দেই ছুটি।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান