আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৬. সফর-মুসাফিরের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৬১৪
সফর-মুসাফিরের অধ্যায়
নামাযের ফযীলত।
৬১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী যিয়াদ (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাকে একদিন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে কা’ব ইবনে উজরা, আমার পরে কিছু আমীর হবে তাদের (অমঙ্গল) থেকে আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিচ্ছি। যে ব্যক্তি তাদের দরজায় যাবে এবং তাদের মিথ্যাচারে তাদের সমর্থন দিবে, তাদের যুলুমে তাদের সহযোগিতা করবে, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গেও তার কোন সম্পর্ক নেই। সে হাওযে কাউসারে পানি পান করতে আমার নিকট আসতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি তাদের দরজায় যাবে না এবং তাদের মিথ্যাচারে তাদের সমর্থন করবে না, তাদের যুলমে তাদের সহযোগিতা করবে না, সে আমার এবং আমি তার। অবশ্যই সে হাওযে কাউসারে পানি পান করতে আমার নিকট আসবে। হে কা’ব ইবনে উজরা, নামায হল দলীল, রোযা হল রক্ষাকারী বর্ম, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয়, তেমনি দান-সাদ্কাও গুনাহসমূহ দূরীভূত করে দেয়। হে কা’ব ইবনে উজরা, হারাম খেয়ে যে গোশতের বৃদ্ধি ঘটেছে, জাহান্নামই হল তার যোগ্য।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। রাবী আইয়ুব ইবনে আয়েব যঈফ। তিনি মুরজি’আ-পন্থি ছিলেন বলেও কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি এই সনদটি অত্যন্ত গারীব বলে অভিহিত করেছেন।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। রাবী আইয়ুব ইবনে আয়েব যঈফ। তিনি মুরজি’আ-পন্থি ছিলেন বলেও কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি এই সনদটি অত্যন্ত গারীব বলে অভিহিত করেছেন।
أبواب السفر
باب مَا ذُكِرَ فِي فَضْلِ الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْقَطَوَانِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا غَالِبٌ أَبُو بِشْرٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَائِذٍ الطَّائِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُعِيذُكَ بِاللَّهِ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ مِنْ أُمَرَاءَ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي فَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ فَصَدَّقَهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَأَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَلَيْسَ مِنِّي وَلَسْتُ مِنْهُ وَلاَ يَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ وَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ أَوْ لَمْ يَغْشَ فَلَمْ يُصَدِّقْهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَلَمْ يُعِنْهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَهُوَ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَسَيَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ الصَّلاَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ حَصِينَةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ . يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ إِنَّهُ لاَ يَرْبُو لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ إِلاَّ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى . وَأَيُّوبُ بْنُ عَائِذٍ الطَّائِيُّ يُضَعَّفُ وَيُقَالُ كَانَ يَرَى رَأْىَ الإِرْجَاءِ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى وَاسْتَغْرَبَهُ جِدًّا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর আশ্রয় চাই। আলোচ্য হাদীসে খুবই কঠিন ধমক রয়েছে। হাদীসের শব্দাবলীর বাহ্যিক মর্মার্থ এটাই যে, দুনিয়াতে যে ব্যক্তি হারাম উপার্জনের খাদ্য দ্বারা দেহ বর্ধিত করেছে সে জান্নাতের প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। আর জাহান্নামই তার ঠিকানা। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। হাদীসের ব্যাখ্যাকারীগণ কুরআন ও হাদীসের অন্যান্য দলীলের আলোকে এর অর্থ এই বলেছেন যে, এ জাতীয় লোক হারাম ভক্ষণের শাস্তি না পেয়ে জান্নাতে যেতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি সে মু'মিন হয়ে থাকে তবে হারামের শাস্তি ভোগের পর জান্নাতে যেতে পারবে। আর মৃত্যুর পূর্বে যদি তার সত্য তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সৌভাগ্য হয়, অথবা কোন নেক বান্দা তার জন্য ক্ষমার দু'আ করে ও তা কবুল হয় কিংবা দয়ালু আল্লাহ স্বয়ং ক্ষমা ফায়সালা করেন তবে শাস্তি ছাড়াও পরিত্রাণ পেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: