আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাকাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৬৫৯
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাকাত অধ্যায়
যাকাত ছাড়াও ধন-সম্পদের হক রয়েছে।
৬৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাদ্দুবিয়া (রাহঃ) ...... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজেই অথবা অন্য কেউ নবী (ﷺ) কে যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। তিনি বললেনঃ যাকাত ছাড়াও ধন-সম্পদে অবশ্যই আরো হক রয়েছে। তারপর তিনি সূরা বাকারার এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। (অর্থ)- কোন পূণ্য নেই তোমাদের মুখ ফিরানোতে ......... শেষ পর্যন্ত (২:১৭৭) - ইবনে মাজাহ ১৭৮৯
كتاب الزكاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ أَنَّ فِي الْمَالِ حَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَدُّويَهْ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الزَّكَاةِ فَقَالَ " إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ " . ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ ( لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ ) الآيَةَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির উদ্দেশ্য এই যে, কেউ যেন এ ভুল বুঝাবুঝির শিকার না হয় যে, নির্ধারিত যাকাত (অর্থাৎ, বধিষ্ণু সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করে দেওয়ার পর মানুষের উপর আল্লাহর আর কোন হক ও দাবী অবশিষ্ট থাকে না এবং সে এ সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ব্যাপারটি আসলে এমন নয়; বরং বিশেষ বিশেষ অবস্থায় যাকাত আদায় করে দেওয়ার পরও আল্লাহর অভাবী বান্দাদের সাহায্যের দায়িত্ব বিত্তবানদের উপর থেকে যায়। যেমন, একজন ধনী মানুষ হিসাব করে সম্পূর্ণ যাকাত আদায় করে দিয়ে দিল, তারপর সে জানতে পারল যে, তার কোন প্রতিবেশী উপোস করছে অথবা অমুক আত্মীয় চরম অভাবে রয়েছে কিংবা কোন অভিজাত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা কোন মুসাফির এমন অবস্থায় তার কাছে এসে পৌছল যে, এ মুহূর্তে তার সাহায্যের প্রয়োজন। এসব অবস্থায় এ অভাবী ও বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে এ বিষয়টি বর্ণনা করলেন এবং প্রমাণ হিসাবে সূরা বাকারার উপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। এ আয়াতে পুণ্য কর্মসমূহের তালিকায় ঈমানের পর ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ইত্যাদি শ্রেণীসমূহের আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। এরপর নামায কায়েম ও যাকাত আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এখানে ঐসব দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর মানুষদের আর্থিক সাহায্যের যে কথা বলা হয়েছে, এটা যাকাতের বাইরে অন্যান্য দান-খয়রাত। কেননা, যাকাতের আলোচনা এ আয়াতেই স্বতন্ত্রভাবে বর্তমান রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে এ বিষয়টি বর্ণনা করলেন এবং প্রমাণ হিসাবে সূরা বাকারার উপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। এ আয়াতে পুণ্য কর্মসমূহের তালিকায় ঈমানের পর ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ইত্যাদি শ্রেণীসমূহের আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। এরপর নামায কায়েম ও যাকাত আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এখানে ঐসব দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর মানুষদের আর্থিক সাহায্যের যে কথা বলা হয়েছে, এটা যাকাতের বাইরে অন্যান্য দান-খয়রাত। কেননা, যাকাতের আলোচনা এ আয়াতেই স্বতন্ত্রভাবে বর্তমান রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: