আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ৬৮৬
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন মাকরূহ।
৬৮৩. আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আশাজ্জ (রাহঃ) ..... সিলা ইবনে যুফার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর কাছে ছিলাম। তখন একটি ভূনা বকরী (আহারের জন্য) হাযির করা হয়। তিনি বললেন, সবাই খাও। কিন্তু একজন দূরে সরে বলল, আমি সাঈম-রোযাদার। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন করল, সে আবুল কাসিম (ﷺ) এর নাফরমানী করল। - ইবনে মাজাহ ১৬৪৫
এই বিষয়ে আবু হুরায়রা ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আম্মার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুসারে নবী (ﷺ) এর সাহাবীও তাদের পরবর্তী যুগের তাবিঈদের মধ্য থেকে অধিকাংশ আলিম-এর আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত এ-ই। তাঁরা সন্দেহের দিন রোযা পালন করা মাকরূহ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি উক্ত দিনের রোযা পালন করে আর তা যদি রমযান মাসের হয়, অধিকাংশ আলমের মতে, তবুও তাকে এই দিনের স্থলে একদিনের রোযা কাযা করতে হবে।
এই বিষয়ে আবু হুরায়রা ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আম্মার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুসারে নবী (ﷺ) এর সাহাবীও তাদের পরবর্তী যুগের তাবিঈদের মধ্য থেকে অধিকাংশ আলিম-এর আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত এ-ই। তাঁরা সন্দেহের দিন রোযা পালন করা মাকরূহ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি উক্ত দিনের রোযা পালন করে আর তা যদি রমযান মাসের হয়, অধিকাংশ আলমের মতে, তবুও তাকে এই দিনের স্থলে একদিনের রোযা কাযা করতে হবে।
أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا . فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يَشُكُّ فِيهِ النَّاسُ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمَّارٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ كَرِهُوا أَنْ يَصُومَ الرَّجُلُ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ وَرَأَى أَكْثَرُهُمْ إِنْ صَامَهُ فَكَانَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَنْ يَقْضِيَ يَوْمًا مَكَانَهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সন্দেহের দিন দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ দিন, যার ব্যাপারে সন্দেহ হয় যে, এটা হয়তো রমযানের দিন হবে। যেমন, ২৯শে শা'বান আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকল এবং চাঁদ দেখা গেল না। এমতাবস্থায় পরবর্তী দিনের ব্যাপারে সন্দেহ হয় যে, আজ হয়তো চাঁদ উঠেছে এবং আকাশে মেঘ অথবা ধূলি থাকার কারণে তা দেখা যায়নি। তাই এ হিসাবে আগামীকাল রমযান হবে। শরী‘আতে এ সন্দেহ ও ধারণার কোন ভিত্তি নেই এবং এর উপর ভিত্তি করে ঐ দিন রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। আর কোন কোন হাদীস থেকে এ বিষয়টি জানা যায় যে, এমতাবস্থায় শা'বানের ৩০ দিন পূর্ণ করে পরে রোযা রাখতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: