আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ৭৪৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
কেবল জুমআ বারের রোযা পালন মাকরূহ।
৭৪১. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আগের দিন বা পরের দিন রোযা না রেখে তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমআর দিনের রোযা পালন না করে। - ইবনে মাজাহ ১৭২৩, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আলী, জাবির, জুনাদা আল-আযদী, জুওয়ায়রা, আনাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা আগের দিনে বা পরের দিনের রোযা শামিল না করে কেবল জুমআ বারের রোযা পালন মাকরূহ বলে মনে করেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর বক্তব্য।
أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَحْدَهُ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُومُ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَجُنَادَةَ الأَزْدِيِّ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْتَصَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

জুমু'আর দিন এবং এর রাতের বিশেষ ফযীলতের কারণে যেহেতু এর খুব সম্ভাবনা ছিল যে, ফযীলত আকাঙ্ক্ষী লোকেরা এ দিন রোযা রাখার এবং এর রাতে জাগ্রত থাকা ও ইবাদতের প্রতি খুব বেশী গুরুত্ব দিয়ে বসবে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল (ﷺ) যে জিনিসটি ফরয ও ওয়াজিব সাব্যস্ত করেননি, এর সাথে ফরয ও ওয়াজিবের মতই ব্যবহার করা হবে, এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তাছাড়া এই নিষেধাজ্ঞার আরও কিছু কারণও ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন। যাহোক, এ নিষেধাজ্ঞাটি শরী‘আতের সীমারেখা রক্ষা ও শৃঙ্খলা বিধানের জন্যই। উদ্দেশ্য এই যে, শুক্রবারের রোযা এবং রাত্রি জাগরণ যেন একটি অতিরিক্ত রসম ও রেওয়াজে পরিণত না হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)