আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৮০৩
আন্তর্জাতিক নং: ৮০৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়লে।
৮০১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী(ﷺ) রমযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। ফলে পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। - আবু দাউদ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। নিয়ত অনুসারে ইতিকাফ পূর্ণ করার পূর্বেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। যদি সে নিয়ত অনুসারে পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেয়, আলিম বলেন, সে যদি তার ইতিকাফ ভঙ্গ করে তবে তার কাযা ওয়াজিব। তারা এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন যে, নবী (ﷺ) ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়েছিলেন, পরে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করে। এ হল মালিক (রাহঃ) এর বক্তব্য। কোন কোন আলিম বলেন, যদি মান্নত বা নিজেরে জন্য অবশ্য কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণকৃত ইতিকাফ না হয়ে থাকে এবং সে নফল ইতিকাফ আদায়কারী হয়ে থাকে তবে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার উপর ওয়াজিব নয় যে সে কাযা করবে। তবে যদি সে স্বেচ্ছায় কাযা করতে পছন্দ করে, তা ভিন্ন কথা। কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। এ হল ইমাম শাফেঈ (রাহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেই (রাহঃ) বলেন, যে আমল তোমর জন্য ওয়াজিব নয় এমন কোন আমল যদি তুমি করতে শুরু কর আর পূর্ণ না করে তা ছেড়ে দাও তা হলে হজ্জ ও উমরা ছাড়া আর কোন আমলের কাযা করা তোমার উপর ওয়াজিব নয়। এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمُعْتَكِفِ إِذَا قَطَعَ اعْتِكَافَهُ قَبْلَ أَنْ يُتِمَّهُ عَلَى مَا نَوَى فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا نَقَضَ اعْتِكَافَهُ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ فَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ نَذْرُ اعْتِكَافٍ أَوْ شَيْءٌ أَوْجَبَهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ مُتَطَوِّعًا فَخَرَجَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَقْضِيَ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ ذَلِكَ اخْتِيَارًا مِنْهُ وَلاَ يَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . قَالَ الشَّافِعِيُّ فَكُلُّ عَمَلٍ لَكَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ فِيهِ فَإِذَا دَخَلْتَ فِيهِ فَخَرَجْتَ مِنْهُ فَلَيْسَ عَلَيْكَ أَنْ تَقْضِيَ إِلاَّ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীসে এ কথার কোন উল্লেখ নেই যে, এক বছর ইতিকাফ না করতে পারার কারণ কি ছিল। তবে নাসায়ী ও আবু দাউদ শরীফে হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যেখানে এর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এক বছর রমযানের শেষ দশকে হুযুর (ﷺ)-কে কোন এক সফরে যেতে হয়েছিল। এ কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেন নি। তাই পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন।

বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে বছর হুযুর (ﷺ) ইন্তিকাল করেন, সে বছরও তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। এ বিশ দিনের ইতিকাফ সম্ভবত এ কারণে ছিল যে, তিনি ইঙ্গিতে জানতে পেরেছিলেন যে, অচিরেই তাঁকে এ দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য ইতিকাফের মত আমলের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ স্বভাবজাত ব্যাপার ছিল। কেননা, মিলনের প্রতিশ্রুতি যখন নিকটে এসে যায়, তখন হৃদয়ের উত্তাপও তীব্রতর হয়ে উঠে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান