আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১১. নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা
হাদীস নং: ১১০৫
আন্তর্জাতিক নং: ১১০৫
নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা
বিবাহের খুতবা।
১১০৫. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নামাযের তাশাহ্হুদ শিখিয়েছেন এবং প্রয়োজন ক্ষেত্রের তাশাহহুদও শিখিয়েছেন। নামাযের তাশাহ্হুদ হলোঃ
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ″
অর্থাৎ, যাবতীয় মৌলিক ইবাদত, দৈহিক ইবাতাদ ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহরই জন্য। হে নবী, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এবং তাঁর রহমত ও বরকত। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহুর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
এরপর তিনি তিনটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। বর্ণনাকারী, আবছার (রাহঃ) বলেন, সুফিয়ান ছাওরী এই তিনটি আয়াতের বিবরণ দিয়েছেন। প্রয়োজনের ক্ষেত্রের তাশাহ্হুদঃ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا فَمَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। আর আল্লাহর আশ্রয় নেই আমাদের নিজেদের নিজেদের কূপ্রবৃত্তি থেকে এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে। আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালনা করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ্ যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ সৎপথে পরিচালিত করতে পারে না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত মা’বুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।’
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(ا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ --- وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا)
১. তোমরা আল্লাহকে যথার্থ ভাবে ভয় কর। এবং তোমরা আত্ম সমর্পনকারী না হয়ে মরো না।’’ সূরা আল- ইমরান (৩ :১০২)।
২. এবং আল্লাহ ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্ছা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধক সম্পর্কে। আল্লাহ্ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। সূরা নিসা (৪:১)
৩. আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। (আহযাব ৩৩: ৭০)। - ইবনে মাজাহ
এই বিষয়ে আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আ’মাশ এটিকে আবু ইসহাক, আবুল অহওয়াস- আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। শু’বা (রাহঃ) এটিকে আবু ইসহাক আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। উভয় সনদই সহীহ। কেননা ইসরাঈল (রাহঃ) উভয় রিওয়ায়াতকেই একত্রিত করে আবু ইসহাক আবুল আহওয়াস ও আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। কোন কোন আলিম বলেন, খুতবা প্রদান ছাড়াও বিবাহ জায়েয। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও অন্যান্য আলিমগণের অভিমত।
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ″
অর্থাৎ, যাবতীয় মৌলিক ইবাদত, দৈহিক ইবাতাদ ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহরই জন্য। হে নবী, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এবং তাঁর রহমত ও বরকত। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহুর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
এরপর তিনি তিনটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। বর্ণনাকারী, আবছার (রাহঃ) বলেন, সুফিয়ান ছাওরী এই তিনটি আয়াতের বিবরণ দিয়েছেন। প্রয়োজনের ক্ষেত্রের তাশাহ্হুদঃ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا فَمَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। আর আল্লাহর আশ্রয় নেই আমাদের নিজেদের নিজেদের কূপ্রবৃত্তি থেকে এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে। আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালনা করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ্ যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ সৎপথে পরিচালিত করতে পারে না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত মা’বুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।’
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(ا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ --- وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا)
১. তোমরা আল্লাহকে যথার্থ ভাবে ভয় কর। এবং তোমরা আত্ম সমর্পনকারী না হয়ে মরো না।’’ সূরা আল- ইমরান (৩ :১০২)।
২. এবং আল্লাহ ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্ছা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধক সম্পর্কে। আল্লাহ্ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। সূরা নিসা (৪:১)
৩. আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। (আহযাব ৩৩: ৭০)। - ইবনে মাজাহ
এই বিষয়ে আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আ’মাশ এটিকে আবু ইসহাক, আবুল অহওয়াস- আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। শু’বা (রাহঃ) এটিকে আবু ইসহাক আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ্ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। উভয় সনদই সহীহ। কেননা ইসরাঈল (রাহঃ) উভয় রিওয়ায়াতকেই একত্রিত করে আবু ইসহাক আবুল আহওয়াস ও আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। কোন কোন আলিম বলেন, খুতবা প্রদান ছাড়াও বিবাহ জায়েয। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও অন্যান্য আলিমগণের অভিমত।
أبواب النكاح عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي خُطْبَةِ النِّكَاحِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم التَّشَهُّدَ فِي الصَّلاَةِ وَالتَّشَهُّدَ فِي الْحَاجَةِ قَالَ " التَّشَهُّدُ فِي الصَّلاَةِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . وَالتَّشَهُّدُ فِي الْحَاجَةِ " إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا فَمَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . وَيَقْرَأُ ثَلاَثَ آيَاتٍ . قَالَ عَبْثَرٌ فَفَسَّرَهُ لَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ : (اتَّقوا الله حقَّ تقاتهِ ولا تموتنَّ إلاَّ وأنتمْ مسلمونَ). (اتّقوا الله الَّذي تساءلونَ بهِ والأرحامَ إنَّ اللهَ كانَ عليكُم رقيباً). (اتَّقوا الله وقولوا قولاً سديداً). قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحٌ لأَنَّ إِسْرَائِيلَ جَمَعَهُمَا فَقَالَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ وَأَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّ النِّكَاحَ جَائِزٌ بِغَيْرِ خُطْبَةٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবা কিরামকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিতেন। অনুরূপভাবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর হাত তাঁর দুই হাতের মধ্যে চেপে ধরার বিষয়টিও ছিল এমনিতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহাভী শরীফে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক এক শব্দ করে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দেন যেমনিভাবে কোন শিশুকে বা অশিক্ষিত ব্যক্তিকে কোন বস্তু স্মরণ রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম ﷺ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) কে এই তাশাহহুদ শিক্ষা দেন এবং তাকে এই মর্মে নির্দেশ দেন, যে, তিনি যেন তা অপরকে শিক্ষা দেন। তাশাহ্হুদ সম্পর্কিত হাদীস হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) ছাড়াও হযরত উমর, আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস, আয়েশা (রা) সহ আরো কতিপয় সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। এ বর্ণনাসমূহে কেবল দু' একটি শব্দের পার্থক্য রয়েছে মাত্র। কিন্তু সনদ ও রিওয়ায়াত উভয় দিক থেকে হাদীস বিশারদগণের মতে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণিত তাশাহহুদের রিওয়ায়াতটি প্রাধান্য পাবার দাবি রাখে যদিও অপরাপর বর্ণনা বিশুদ্ধ এবং সে সকল রিওয়ায়াতের তাশাহহুদ ও সালাতে পাঠ করা যেতে পারে।
কতিপয় ভাষ্যকারের মতে, এই তাশাহ্হুদ মূলত নবী কারীম ﷺ এর মি'রাজকালীন আল্লাহর সাথে কথোপকথন উল্লেখ্য, যখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র হুযূরে উপস্থিত হন তখন এ বলে বন্দেগীর নযরানা পেশ করেন التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوتُ وَالطَّيِّبَاتُ আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবে বলা হলঃالسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ নবী কারীম ﷺ জবাবে বললেন:السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ এরপর তিনি ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বললেন: أشهد أن لا اله الا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
ভাষ্যকারগণ লিখেন, সালাতে এই কথোপকথন মূলতঃ মি'রাজের রাতের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ- এতে নবী কারীম ﷺ এর প্রতি সম্বোধনের সর্বনাম অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সহীহ বুখারী ও অপরাপর গ্রন্থে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাশাহ্হুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনকালে السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ বলার সময় আমরা অনুভব করতাম যে তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান আছেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন থেকে আমরা السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ বলা শুরু করি।
কিন্তু জমহুর উম্মাতের আমল থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাতকে যে শব্দমালা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ ইন্তিকালের পরও স্মৃতি হিসেবে তা বহাল রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে রাসূল-প্রেমিকদের এক বিশেষ অনুভূতি নিহিত। তবে এ শব্দগুচ্ছের আলোকে যে সব লোক নবী কারীম ﷺ কে হাযির নাযির (সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী) এর আকীদা পোষণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তারা শিরক প্রীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
কতিপয় ভাষ্যকারের মতে, এই তাশাহ্হুদ মূলত নবী কারীম ﷺ এর মি'রাজকালীন আল্লাহর সাথে কথোপকথন উল্লেখ্য, যখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র হুযূরে উপস্থিত হন তখন এ বলে বন্দেগীর নযরানা পেশ করেন التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوتُ وَالطَّيِّبَاتُ আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাবে বলা হলঃالسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ নবী কারীম ﷺ জবাবে বললেন:السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ এরপর তিনি ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বললেন: أشهد أن لا اله الا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
ভাষ্যকারগণ লিখেন, সালাতে এই কথোপকথন মূলতঃ মি'রাজের রাতের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ- এতে নবী কারীম ﷺ এর প্রতি সম্বোধনের সর্বনাম অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সহীহ বুখারী ও অপরাপর গ্রন্থে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাশাহ্হুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনকালে السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ বলার সময় আমরা অনুভব করতাম যে তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান আছেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন থেকে আমরা السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ বলা শুরু করি।
কিন্তু জমহুর উম্মাতের আমল থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাতকে যে শব্দমালা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ ইন্তিকালের পরও স্মৃতি হিসেবে তা বহাল রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে রাসূল-প্রেমিকদের এক বিশেষ অনুভূতি নিহিত। তবে এ শব্দগুচ্ছের আলোকে যে সব লোক নবী কারীম ﷺ কে হাযির নাযির (সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত ও প্রত্যক্ষদর্শী) এর আকীদা পোষণ করতে চায় তাদের সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তারা শিরক প্রীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)